আবু রায়হান, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর বাউফল পাবলিক মাঠে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমার কোনো ঠিকানা নেই, সমগ্র বাংলাদেশই আমার ঠিকানা। সরকার গঠন করতে পারলে আপনাদের ঘরে ঘরে উন্নয়ন পৌঁছে দেব।”
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে তিনি আরও বলেন, “আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নতুন সূর্য উঠবে। সেই সূর্যের আলোয় আমরা যদি আলোকিত হতে পারি, কথা দিলাম—আপনাদের কিছু চাইতে হবে না, আমরা এসে আপনাদের চাহিদা পূরণ করে দেব।”
দাঁড়িপাল্লা ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দাঁড়িপাল্লা হলো ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক। এ প্রতীকে ভোট দিলে দেশে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাট থাকবে না। মা-বোনেরা নিরাপদে থাকতে পারবেন।”
তিনি অতীত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “যারা আগে সরকারে ছিলেন তারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। আমরা সরকার গঠন করতে পারলে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনে দেশের উন্নয়নে ব্যয় করব।”
‘হ্যাঁ’ ভোট ও মার্কায় ভোটের আহ্বান তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন—একটি ‘হ্যাঁ’ ভোট, আরেকটি মার্কায় ভোট। হ্যাঁ ভোট দিলে জাতি পরাধীনতা থেকে মুক্তি পাবে।” দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সরকার হলে কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই হবে না।”
প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি সমাবেশে বাউফল আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমি সব সময় আপনাদের পাশে ছিলাম, নির্বাচিত হলে বাউফলকে একটি মডেল উপজেলায় পরিণত করব ইনশাআল্লাহ।”
তিনি নদীভাঙনকে প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচিত হলে— টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কৃষি আধুনিকায়ন ইউনিয়নভিত্তিক পরিকল্পিত উন্নয়ন মা-বোনদের জন্য সুরক্ষা সেল গঠন বাউফল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সমাবেশে জনসমাগম বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাও. ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাবির ভিপি সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্র, জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে পটুয়াখালীর চারটি আসন ও বরগুনার একটি আসনের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ভবনের বারান্দা ও ছাদেও মানুষকে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

