নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ॥
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভোট দিয়ে নিশ্চিত করবেন কোনো ধরনের কারচুপি হচ্ছে কি না। রেজাল্ট ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেউ ভোটকেন্দ্র ছাড়বেন না। এ যুদ্ধে আমরাই জয়ী হবো, ইনশাল্লাহ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আপনারা নিজ নিজ এলাকার মানুষকে ভালোভাবে চেনেন। ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা সতর্কভাবে নজর রাখবেন। কোনো কারচুপি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবেন।”
পরে তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদ্রাসা ও ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় যোগ দেন। পথসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, “কয়েকদিন ধরে আমরা পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখছি, একটি দল নারীদের হেয় করে অশালীন মন্তব্য করছে। যেখানে দেশের অর্ধেক মানুষ নারী—তারা আমাদের মা ও বোন—তাদের সম্মান দিতে যারা জানে না, তারা কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে?”
প্রতিপক্ষ জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “বিএনপি সবসময় কাজে বিশ্বাস করে, শুধু সমালোচনায় নয়। আজ একটি দল নতুন করে রাজনীতিতে এসেছে। রাজনীতি ও নির্বাচন করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু দয়া করে মিথ্যা বলবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াত ইসলাম ধর্মের কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। মা-বোনদের বিভ্রান্ত করে বলা হচ্ছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি জান্নাত পাওয়া যাবে—এটা কোনো সচেতন মুসলমান বিশ্বাস করে না। মাকে সম্মান না করলে কেউ বেহেশত পেতে পারে না। এমনকি চরমোনাই পীর সাহেবও বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো ইসলামী দল নয়।”
বিএনপির প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কলকারখানা গড়ে তোলা হবে, যুবকদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার আমার বিরুদ্ধে ১১৭টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমি সাড়ে তিন বছর জেলে ছিলাম। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রায় ১০ বছর কারাবন্দি ছিলেন। ২০ হাজারের বেশি নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। কৃষকরা যেন ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ, তেল ও কৃষিপণ্য পায়, সে ব্যবস্থা করা হবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। নারীদের এনজিও ঋণের কিস্তির দায়িত্ব সরকার নেবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। এ সময় জেলা বিএনপি, উপজেলা বিএনপি, ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ ভোটার উপস্থিত ছিলেন।

