মো: এ কে নোমান, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় খাসির মাংসের নামে কুকুরের মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ী বাজারসংলগ্ন তেতুলতলী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত কসাই ও তার সহযোগী পালিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কেজি জবাইকৃত কুকুরের মাংস উদ্ধার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবাড়ী বাজারের খাসির মাংস বিক্রেতা এনতাজুল কসাই ও তার সহযোগী দুলু মৌলভী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাংস বিক্রি করে আসছিলেন। তারা সাধারণত নিজ বাড়িতে পশু জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাত করতেন এবং পরে দোকানে এনে তা বিক্রি করতেন। স্থানীয়দের কাছে তারা পরিচিত মুখ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কেউ তেমন সন্দেহ প্রকাশ করেননি।
রবিবার সকালে এনতাজুলের বাড়িতে একটি কুকুর জবাই করার দৃশ্য প্রতিবেশীদের নজরে আসে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা আশপাশের লোকজনকে জানায়। অল্প সময়ের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের দোকানে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করতে চাইলে তারা পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দোকানে রাখা মাংস ফেলে রেখে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
এরপর মুহূর্তের মধ্যেই শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কেউ কেউ অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ধামইরহাট থানার এসআই আবির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোকান ও আশপাশের এলাকা থেকে মাংসগুলো জব্দ করেন। পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এআই টেকনিশিয়ান মিজানুর রহমান মিন্টু ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করেন যে উদ্ধারকৃত মাংস খাসির নয়, বরং কুকুরের।
জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কেজি জবাইকৃত কুকুরের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত এন্তাজুল ও দুলু মৌলভী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত মাংসগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হচ্ছে।
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাংস উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সচেতন মহল বলছেন, ভেজাল ও প্রতারণামূলকভাবে খাদ্য বিক্রি করা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং সাধারণ ভোক্তাদের সঙ্গে চরম প্রতারণা করা হয়। বিশেষ করে মাংসের মতো সংবেদনশীল খাদ্যপণ্যে এমন জালিয়াতি সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বর্তমানে পুরো এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশি অভিযানের অগ্রগতি ও মামলার কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ।


