যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চল বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে এবং গত কয়েকদিন ধরে ন্যাটো ওয়াশিংটনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। বিশেষ করে ‘গোল্ডেন ডোম’সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোর জন্য এই অঞ্চল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক বা নিরাপত্তা উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না বললেও, তিনি স্পষ্ট করেন যে ন্যাটোর সঙ্গে এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরোধিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “গ্রিনল্যান্ড আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য জরুরি। যারা এই বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করবে না, তাদের ওপর আমি শুল্ক আরোপ করতে পারি।” তিনি এ সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ’র সঙ্গে অতীতের এক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওষুধপণ্যের দাম সংক্রান্ত বিরোধে যেমন ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও একই কৌশল নেওয়া হতে পারে।
এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যেন রাশিয়া বা চীনের নিয়ন্ত্রণে না চলে যায়, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অঞ্চলটি ‘অধিগ্রহণ’ করা। এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং দ্বীপটির ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গত বুধবার ডেনমার্কের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউসে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন সাংবাদিকদের জানান, আলোচনা খোলামেলা ও গঠনমূলক হলেও সার্বভৌমত্ব ও মালিকানা পরিবর্তনের মতো মৌলিক বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন কেন গ্রিনল্যান্ডকে এতটা গুরুত্ব দিচ্ছে—এ নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা আলোচনা থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি বিষয়টিকে শুধু ভূ-রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই দেখছেন।

