হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর, ইএসডিও আদাবর মোহাম্মদপুরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নাগরিক সংগঠনের অংশগ্রহণে জনপরিসর সম্প্রসারণ ও ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করে আশার আলো সোসাইটি।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উইম্যান উইন্ডসের নির্বাহী প্রধান মুশফিকা লাইজু। এছাড়া বক্তব্য দেন স্বপ্নজয়ীর নির্বাহী পরিচালক রাখী হিজড়া, সচেতন হিজড়া সংঘের প্রতিনিধি শ্রাবন্তী এবং আশার আলো সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক আ. রহমান। সভায় আইসিডিডিআরবি, বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার, ব্লাস্ট, বনশিখা, নারীপক্ষসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় হিজড়া জনগোষ্ঠীর সেবা গ্রহণসংক্রান্ত একটি সার্ভে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আশার আলো সোসাইটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. সানোয়ার হোসেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাব, স্থায়ী ঠিকানা না থাকা, শিক্ষার ঘাটতি, সামাজিক বৈষম্য, সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাব এবং ঘন ঘন বাসস্থান পরিবর্তন—এসবই হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সেবা গ্রহণে প্রধান প্রতিবন্ধকতা।

মতবিনিময় সভায় সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—বিলবোর্ড, পোস্টার ও লিফলেটের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় সংগঠন ও এনজিওগুলোর সম্পৃক্ততা, নিয়মিত সমন্বয় সভা আয়োজন, হিজড়া কমিউনিটির প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংবেদনশীলতা প্রশিক্ষণ এবং হিজড়া-বান্ধব হেল্পডেস্ক স্থাপন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুশফিকা লাইজু বলেন, কর্মক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ না থাকায় অনেক হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি চাকরিতে টিকে থাকতে পারেন না। তিনি বলেন, চাকরিতে নিয়োগের পাশাপাশি কাজের পরিবেশও মানবিক ও সহায়ক করা জরুরি। এজন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের জন্য শুধুমাত্র প্রচলিত পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা, হটলাইন ও টাস্কফোর্স গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বক্তারা বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। এতে হিজড়া জনগোষ্ঠী মূলধারার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে পারবে।


