দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মচারীদের পদোন্নতির দাবিতে বোর্ড চেয়ারম্যানকে নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দরজার সামনেই কর্মচারীরা বিক্ষোভ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।
রোববার (১ মার্চ) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। থানার অফিসার ইনচার্জ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহ আলোচনার এক পর্যায়ে অবরুদ্ধার করে কর্মচারীরা।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সকালে বিভিন্ন পদে কর্মরত কর্মচারীরা পদোন্নতির দাবিতে চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন। এ সময় কক্ষে বোর্ড সচিব আব্দুর রাজ্জাক, উপসচিব আব্দুস সালাম এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমালিকা পাল এবং কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুন্নবী। তাদের উপস্থিতিতে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আন্দোলনকারী কর্মচারীদের দাবি, শিক্ষা বোর্ডে বর্তমানে ১০৮ জন কর্মচারী কর্মরত থাকলেও গত ১৭ বছর ধরে অধিকাংশের পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে। ২০১৭ সালে ২০ জনের পদোন্নতি দেওয়া হলেও বাকি কর্মচারীরা এখনো বঞ্চিত রয়েছেন। বিষয়টি একাধিকবার চেয়ারম্যান ও সচিবের কাছে উপস্থাপন করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মওদুদ উল করীম বলেন, “আমরা ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালে যোগদান করেছি। চাকরি স্থায়ীকরণের তিন বছর পর ২০১৭ সালে কিছু সংখ্যক কর্মচারীর পদোন্নতি হয়েছে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকার কথা বলা হলেও সেই অবস্থায়ই ২০ জনের পদোন্নতি হয়েছে—এ নিয়ে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে এবং প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ বিষয়ে বোর্ড সচিব আব্দুর রাজ্জাক মুঠোফোনে বলেন, “পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া পদোন্নতির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। আজ কর্মচারীরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমাদের কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি উপস্থিত আছেন। আমরা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।


