সালমান আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে সরকারি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও আসন্ন পৌর নির্বাচনের সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আমির হোসেন।
১৫ মার্চ রবিবার তিনি সুনামগঞ্জ পৌর প্রশাসক বরাবর এই লিখিত আবেদনটি দাখিল করেন।
আবেদনপত্র থেকে জানা যায় যে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত আরপিন নগর ও জামতলা এলাকার বহু দরিদ্র পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকারিভাবে এসব অসহায় মানুষের জন্য যে ত্রাণ বা সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তা প্রকৃতপক্ষে অভাবীদের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে।

সাধারণ মানুষের এই শঙ্কা দূর করতে এবং নাগরিক অধিকার সমুন্নত রাখতে আমির হোসেন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ত্রাণ বিতরণ ও ভিজিএফ অথবা ভিজিডি কার্ডের বরাদ্দ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে আনার দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত আবেদনে আমির হোসেন মূলত ৪টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছেন। প্রথমত ৬ নং ওয়ার্ডের জন্য বিশেষ কোনো সরকারি ত্রাণ বা কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না। দ্বিতীয়ত বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকলে তার সঠিক পরিমাণ এবং তা খাদ্যশস্য নাকি নগদ অর্থ সে বিষয়ে স্বচ্ছতা। তৃতীয়ত ইতিমধ্যে কতজন দুস্থ মানুষ এই সুবিধার আওতায় এসেছেন তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং চতুর্থত ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা বা তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না।

এই বিষয়ে আমির হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি চান সরকারি প্রতিটি বরাদ্দের সুফল যেন প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় মানুষেরা ভোগ করেন। ত্রাণ বিতরণে যেন কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা তথ্য গোপনের সুযোগ না থাকে সেই লক্ষ্যেই তিনি তথ্য অধিকার আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে ৬ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে আমির হোসেন দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের সুখে দুঃখে পাশে রয়েছেন।
বিশেষ করে করোনা মহামারী এবং ভয়াবহ বন্যার সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি যেভাবে মানুষের সেবা করেছেন তা এলাকাবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি আমির হোসেনের মতো একজন সচেতন ও দক্ষ ব্যক্তিত্বই তাদের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে যোগ্য। যিনি জনগণের অধিকার আদায়ে সব সময় সোচ্চার থাকবেন এবং স্বচ্ছতার সাথে কাজ করবেন। পৌর প্রশাসক বরাবর এই আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষ এখন সঠিক তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।

