মারুফ সরকার, নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা বহুল আলোচিত হত্যা ও বিস্ফোরণ মামলাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনি জনতা গঠন করে অবৈধ অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে গুরুতর জখমের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য—হাতবোমা ও ককটেল—বিস্ফোরণের মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, “জুলাই বিপ্লব” সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয় এবং এতে একাধিক প্রাণহানি ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে দেশের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সংগঠন ইসকন–এর এক উচ্চপদস্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অর্থায়নের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল–এর নামও উল্লেখ রয়েছে বলে বাদীপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া ১ থেকে ৪২ নম্বর আসামি আবুল কাশেমসহ ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৭, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৪, ৫৬, ৫৭, ৭০, ১০৫, ১৮০, ১৯৫, ১৯৬ ও ১৯৭ নম্বর আসামির নাম এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।এছাড়া ছাত্রলীগ ক্যাডার সাব্বির হোসেন,বনানী থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রাসেল মিয়ার নাম রয়েছে।
মামলার ১৯৭ তম আসামি কানিজ আক্তার মামলা থেকে তার নাম বাতিল করতে ঊর্ধ্বতন মহলের সাথে যোগাযোগ ও তদবির চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে উচ্চপর্যায়ের তদারকি বা স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা উচিত।
বাদীপক্ষ এজাহারে উল্লেখিত সকল আসামির বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দাখিল, তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

