ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবরের পর এবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আব্দোরহিম মুসাভি। হামলায় আরও কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন।
রোববার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, রাজধানী তেহরানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রতিরক্ষা কাউন্সিল’ বৈঠক চলাকালে এই হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস) গ্রাউন্ড ফোর্স প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং খামেনির শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হামলায় আরও বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন; তাদের নাম পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইসরায়েলি হামলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব নেন মুসাভি। এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার সেনাপ্রধান হারানোয় ইরানের সামরিক নেতৃত্ব এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
শনিবার শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। খামেনির বাসভবনসহ একাধিক সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশের ২৪টি প্রদেশে হামলায় এখন পর্যন্ত ২০১ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যের ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক হামলার ঘোষণা দিয়েছে, যা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

