জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক আজ সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও যথার্থতা যাচাই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সভায় কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আজকের বৈঠকে মোট ৪১টি অধ্যাদেশ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’, ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’, এবং ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’। এছাড়াও সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নির্ধারণ, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) সংশোধন, সন্ত্রাস বিরোধী আইন এবং গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো নিয়ে নিবিড় আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে পরিবেশ ও সম্পদ রক্ষায় ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ’ এবং ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ’ সহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা-সংস্কৃতি বিষয়ক সংশোধনী অধ্যাদেশগুলো গুরুত্বের সাথে পর্যালোচিত হয়। কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই অধ্যাদেশগুলোর আইনগত ও প্রায়োগিক দিকসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পেশ করা হবে।
পরবর্তী বৈঠকগুলোতে অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো নিয়ে পর্যায়ক্রমে আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত থাকবে বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

