শ্রীলঙ্কায় টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে এ পর্যন্ত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগের কারণে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দেশটির সব সরকারি অফিস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু অঞ্চলে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরুদ্ধ রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হলো পাহাড়ি চা-উৎপাদন কেন্দ্র বদুল্লা ও নুয়ারা এলিয়া। এই দুই জেলায় একদিনে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২১ জন নিখোঁজ এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। চলমান ভারি বৃষ্টি ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত করেছে। নদী ও জলাধার থেকে পানি উপচে পড়ায় আন্তঃজেলা যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে।
বদুল্লায় ভূমিধসের কারণে একটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। পাহাড়ি অঞ্চলে রেললাইন পাথর ও কাদামাটিতে ঢেকে ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ছাদে আটকে থাকা তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, এবং নৌবাহিনী ও পুলিশ নৌকা দিয়ে দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। পূর্বাঞ্চলীয় আম্পারা জেলায় বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
এবারের এই দুর্ঘটনার আগে জুন মাসে আবহাওয়াজনিত কারণে ২৬ জন এবং গত ডিসেম্বরে ১৭ জন মারা গিয়েছিলেন। শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ২০০৩ সালের জুনে, তখন ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

