রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসডুবির ঘটনায় উদ্ধার অভিযান শেষে এখন পর্যন্ত মোট ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী বাসটি পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’, ফায়ার সার্ভিস এবং কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে। প্রমত্তা পদ্মার তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি পানি থেকে টেনে তোলা হয়। ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বর্তমানে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪-এ।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে সরকারের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে:
১. জেলা প্রশাসন কমিটি: রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে।
২. নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কমিটি: অতিরিক্ত সচিব মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে।
উভয় কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন।নিহতদের দাফনের জন্য পরিবার প্রতি ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই উদ্ধার অভিযানের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন এবং দ্রুত উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। বর্তমানে নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্তের কাজ এবং নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

