শনিবার সকালে ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু হলো ব্যস্ত দিনের ভিড়। কিন্তু এদিনের আকাশে ভ্রমণকুতি কিছুটা অস্বাভাবিক—মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটগুলোর সংখ্যা কমে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার—এই দেশগুলোতে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে, ঢাকাও প্রভাবিত হলো। এর ফলে গত শনিবার থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে মোট ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হলো।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ প্রথম আলোকে নিশ্চিত করলেন, এই ফ্লাইট বাতিলের পেছনে নিরাপত্তা-ঝুঁকি প্রধান কারণ। বিমানবন্দর এখন শুধু ব্যস্তই নয়, বরং আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তার মিশ্র অনুভূতির কেন্দ্রস্থল। এক দৃষ্টান্ত—কুমিল্লা থেকে ওমানে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে আসা মো. সাগর। শুক্রবার ওমানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল তার, কিন্তু শনিবার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।
সাগর বললেন, “আমার ভিসার মেয়াদ আর মাত্র ৬ দিন। যদি এই সময়ে যেতে না পারি, আমি আর ওমানে প্রবেশ করতে পারব না।” তার কথায় ভেসে এসেছে হতাশা। সরকারি পক্ষ থেকে থাকা-খাওয়ার খরচ দেওয়ার কথা থাকলেও সাগরের মতো অনেকেই সেই সুবিধা পাননি।
যদিও ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলের ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলছিল, ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি ছিল সংকটপূর্ণ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানায়, গতকাল বাতিল হওয়া মদিনাগামী ফ্লাইট (বিজি ৩৩৭) আজ বিকাল ৪টায় এবং জেদ্দাগামী ফ্লাইট (বিজি ৩৩৫) আজ সন্ধ্যা ৭টায় ছাড়বে। বিমান সংস্থাগুলো যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে।
একই সঙ্গে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, আজ থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা এবং ওমানের মাস্কাটে ফ্লাইট নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবী, শারজাহ এবং কাতারের দোহায় ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
ঢাকায় এই একদিনের ঘটনা প্রমাণ করে—কতটা অস্থির হতে পারে এক দেশের আকাশ, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার হাওয়া বইছে। যাত্রীরা অনিশ্চয়তায়, বিমানবন্দর কর্মীরা ব্যস্ত, আর প্রশাসন চেষ্টা করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার। সবার চোখে একটাই আশা—পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হোক, এবং ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবার খোলা হোক।

