সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা এলাকায় টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে ফানাই নদ-এর বাঁধের সিসি ব্লক ধসে পড়েছে। এতে বাঁধের ওপর দিয়ে নির্মিত নয়াগাঁও-অলিপুর নতুন পাকা সড়কটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাংলা এফএম’কে জানায়,‘গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩’-এর আওতায় প্রায় দুই বছর আগে বড়লেখা–মৌলভীবাজার আঞ্চলিক সড়কের ফানাই নদের সেতুর দক্ষিণ দিক থেকে বাঁধের ওপর দিয়ে নয়াগাঁও-অলিপুর ১ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ কাঁচা সড়কটি পাকা করার কাজ শুরু হয়। প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকায় স্থানীয় ঠিকাদার আবদুল লতিফ কাজটি বাস্তবায়ন করেন।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে অলিপুর এলাকায় নদীর ভাঙন ঠেকাতে বাঁধের প্রায় ৫৫ মিটার অংশে সিসি ব্লক বসানো হয়। চার মাস আগে সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হলেও মার্চের শেষ দিকে কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টির পর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বাঁধের একটি অংশের ব্লক ধসে পড়ে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়,নদীতে পানি থাকলেও স্রোত তেমন প্রবল নয়। তবে ব্লক ধসে পড়ার জায়গা দিয়ে ধীরে ধীরে মাটি নদীতে ভেঙে পড়ছে। নদীর ওই স্থানে বড় একটি বাঁক রয়েছে। ধসে পড়া কয়েকটি ব্লক তুলে সড়কের বিপরীত পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম ওসমানী, আবদুল ওয়াহিদ ও মৃণাল কান্তি দেবনাথসহ কয়েকজন জানান,ভাঙন ঠেকাতে আগে এখানে ব্লক বসানো হয়েছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে এলাকা এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আবার ভারী বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢলের চাপ বাড়বে এবং বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। এতে বাঁধ ও সড়ক ভেঙে গেলে আশপাশের বসতবাড়ি বড় ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তাই দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঠিকাদার আবদুল লতিফ বলেন,নকশা অনুযায়ী বাঁধের ঢালে প্রায় তিন ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণ করে তার ওপর সিসি ব্লক বসানো হয়েছিল। কিন্তু ওই স্থানে নদীর গভীরতা প্রায় ১০ ফুট হওয়ায় প্রবল স্রোতের সময় নিচের মাটি সরে গিয়ে ব্লক ধসে পড়ে। বর্তমানে বাঁধের ওপর চাপ কমাতে কিছু ব্লক তুলে রাখা হয়েছে। বিষয়টি এলজিইডির প্রকৌশলীরা পরিদর্শন করেছেন এবং ভাঙন ঠেকাতে সেখানে উঁচু প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
তিনি আরও জানান,নদীর বিপরীত পাশে বড় একটি চর জেগে উঠেছে। পাহাড়ি ঢলের সময় স্রোতের চাপ এ পাশের বাঁধে পড়ছে। তাই আপাতত খননযন্ত্র দিয়ে চরের কিছু অংশ কেটে স্রোতের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জানান,নয়াগাঁও-অলিপুর সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারের জামানতের অর্থ এখনও জমা রয়েছে। তাই ধসে পড়া অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য ঠিকাদারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

