জামিউল ইসলাম তুরান, শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তা ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
১৮ নম্বর পিআইসি প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন ১৮৮১ মিটার বাঁধের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা গেছে। স্থানীয় কৃষক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক বছর আগে বর্ষার সময় ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে মহাসিং নদী ও বাঁধের পাশ থেকে ভিট বালু উত্তোলন করা হয়েছিল। ফলে বাঁধের দুই পাশে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয় এবং বাঁধ নির্মাণের সময় ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছিল।
গত কয়েক বছরেও বাঁধের বিভিন্ন অংশে পুনরায় ফাটল ও ধস দেখা গেছে। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আবারও ছাইয়া কিত্তা অংশে ধস ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পানি কমে যাওয়ায় বাঁধের মহাসিং নদীর অংশে মাটি ধসে পড়েছে এবং একাধিক স্থানে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, নদীর গভীর গর্ত ও অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের কারণে প্রতি বছরই নতুন করে বাঁধে ধস দেখা দেয়। তারা গাছের ভল্লি ও জিও ব্যাগ ব্যবহার করে বাঁধ মজবুত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন:
১৮ নম্বর পিআইসি কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুন্দর আলী বলেন, “প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হলেও শেষ পর্যায়ে ছাইয়া কিত্তার অংশে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। নতুন করে কাজ করতে হবে।”
প্রকল্প সভাপতি দুদু মিয়া জানান, অতিরিক্ত ২৪১ মিটার কাজ যুক্ত করা হয়েছে। মহাসিং নদীর পানি কমে যাওয়ায় গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো হাওরের ফসল ঝুঁকিতে পড়বে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। শীঘ্রই সার্ভে টিমের মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কৃষকরা দৃঢ়ভাবে বাঁধের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে বোরো ফসল সুরক্ষিত রাখা যায়।

