রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কে তীব্র যানজট এখন নিত্যদিনের যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া যানজট সৃষ্টি হচ্ছে ডেমরা-কালিগঞ্জ সড়ক ও কাঞ্চন-রূপসী সড়কেও।
উপজেলার ভুলতা-গোলাকান্দাইল চৌরাস্তা, রূপসী, বরপা, বিশ্বরোড, যাত্রামুড়া, কালনি, রূপগঞ্জ থানা ফজুর বাড়ির মোড়, মুড়াপাড়া বাজার এবং কাঞ্চন সেতুসহ বিভিন্ন স্পটে প্রতিদিন দীর্ঘক্ষণ যানবাহন আটকে থেকে কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন । যানজটের ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস আটকে থাকে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করছে এবং রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকেও বিপাকে ফেলছে।
যানজটের কারণ হিসেবে জানা যায়, এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় গোলাকান্দাইল থেকে জিন্দা ও কাচপুর পর্যন্ত প্রায় সময় যানজট লেগে থাকে। কাঞ্চন সেতুতে টোল আদায়ে ধীরগতি এবং নিয়ম ভঙ্গ করে গাড়ি চালানো। ডেমরা-কালিগঞ্জ সড়কের ফজুর বাড়ির মোড় পুরাতন ব্রিজ ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় সেখান থেকে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কগুলোতে ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলাচলের কারণে প্রায় সময়ই গাড়ি বিকল হয়ে পড়ছে এতে করে সড়কের এক পাশ বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
অবৈধ ট্রাক, প্রাইভেটকার, অটো ও সিএনজি স্টেশনের কারণেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যত্রতত্র অবৈধভাবে এসব স্ট্যান্ড তারা দখল করে রেখেছেন। ভুলতা গোলাকান্দাইল এলাকায় ঢাকা সিলেট মহাসড়ক দখল করে ফুটপাত দখলে নেওয়ার কারণে সেখানে প্রতিনিয়তই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে লোড আনলোড করার কারণে হচ্ছে যানজট। যানজট নিরসনে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা মিলেনি পুলিশের। পুলিশের দায়িত্ব অবহেলাসহ আরো নানা অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে, গোলাকান্দাইল হাট ও গাউছিয়া পাইকারি কাপড় বাজারের কারণে সপ্তাহে বৃহস্পতিবার, সোমবার এবং মঙ্গলবার যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
রূপগঞ্জের এসব সড়ক গুলোতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। রূপগঞ্জ এখন যানজট নগরী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
যানবাহন চালক ও যাত্রীরা জানায়, যেসব কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে ওইসব ব্যাপারে আগে ব্যবস্থা নিতে হবে। পুলিশি দায়িত্ব অবহেলা রয়েছে। রোজা এবং ঈদে ঘরমুখর মানুষের চিন্তা করে সড়কের প্রতিটি পয়েন্টে শতভাগ পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। তাহলে হয়তো যানজট অনেকটা কমে আসবে।
পাবনাগামী মালবাহী ইব্রাহিম খলিল বলেন, সবজি জাতীয় মালামাল আনতে গিয়ে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেক সময় দীর্ঘ সময় যানজটে পরে সবজি নষ্ট হয়ে যায়। পরে এগুলো বিক্রি করতে হয়।
গাজীপুর গামী পিকআপ চালক আব্দুর রহিম বলেন, যে পরিমাণ ভাড়ায় মালামাল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাই, যানজটে আটকা পড়ে তেল খরচ হয়ে আর তেমন থাকে না । তাই যানজট নিরসনের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।
মনোহরদীগামী বাস চালক ইব্রাহিম মিয়া বলেন, আমাদের প্রতিনিয়ত যানজটের কবলে পড়তে হয়। ঘন্টার পর ঘন্টা আটকা পরে যেমন আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যাত্রী সাধারণ।
কাঞ্চন হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের এসআই নকিব হোসেন বলেন, আমরা স্বল্প পরিমাণ হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি। তবে মহাসড়কে সড়ক নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যানজট নিরসনে আমাদেরকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। ১০-১২ দিনের মধ্যে যানজটের সমস্যাগুলো আর থাকবে না বলে আশা করছি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, যানজট নিরসনে হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশও কাজ করবে। রোজা এবং ঈদে ঘরমুখর মানুষের ভোগান্তি কমাতে পুলিশ কাজ করবে।
নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, যেসব কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে আগে ওই সবের ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি ইতিমধ্যে এই যানজট নিরসনের লক্ষ্যে প্রশাসনের সঙ্গে মিটিং করেছি। তাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে করে কোন প্রকার যানজট না থাকে।

