চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
খুলনা জেলার অভয়নগর উপজেলার আমতলা খেয়াঘাটে ভৈরব নদীতে একটি প্রাইভেটকার ডুবে যাওয়ার ঘটনা এখন আর নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। কারণ, গাড়িটির মালিক চট্টগ্রাম কাস্টমসের একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এবং গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল। এ ঘটনাকে ঘিরে তার সম্পদের বৈধতা ও আচরণ নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
ঘটনাটি ঘটে গত ০২ জানুয়ারি শুক্রবার। চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এস. কে. মইনুল ইসলাম নিজ গ্রাম সিদ্ধিপাশা যাওয়ার পথে অভয়নগরের আমতলা খেয়াঘাটে পৌঁছান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকায় গাড়ি তোলার সময় চালক ভুলবশত পেছনের গিয়ার দেওয়ায় টয়োটা প্রিমিও ব্র্যান্ডের প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি ভৈরব নদীতে পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই ডুবে যায়।
যদিও এতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে পরদিন স্থানীয় ডুবুরি ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় গাড়িটি উদ্ধার করা হলে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, গাড়িটি উদ্ধারের সময় এর ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি বেতনের চাকরি করে কীভাবে তিনি একইসঙ্গে নতুন দামি গাড়ি ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকারের মালিক হলেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও সংবাদে অনেকে মন্তব্য করেছেন এই সম্পদের উৎস কি?
ঘটনা সম্পর্কে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে কথা বলতে রাজি হননি। সাংবাদিক পরিচয় জানানো হলে যোগাযোগ এড়িয়ে যান মঈনুল ইসলাম।
পরবর্তীতে তার এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করা হলে কাস্টমস কর্মকর্তা মইনুল কে ওই ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “আমার গাড়ি ডুবে গিয়েছে তা সঠিক, তবে ২০ ভরি স্বর্ণের যে বিষয়টি এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য৷ স্বর্ণ পাওয়া গেছে ঠিকই তবে তা খুবই অল্প পরিমাণে ছিল।কেউ ইচ্ছা করে এই অল্প পরিমানে স্বর্ণকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ বলে আমাকে হয়রানি করার চেষ্টা করছে “।
এই বিষয়ে খুলনার ফুলতলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন,” ওইদিন একটি প্রাইভেট গাড়ি ডুবে গিয়েছিল এবং গাড়ির মালিক সাহায্য চেয়েছিলেন। তবে গাড়িতে কোনো মানুষ ছিল না বা হতহতের ঘটনা ঘটেনি। তাই আমরা যাইনি এবং পরবর্তীতে সে স্থানীয়দের মাধ্যমে তার গাড়ি নদী থেকে উদ্ধার করে “।

