ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে (ওয়েপন সিস্টেম অফিসার) উদ্ধারের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) এক মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানান, তুমুল লড়াই এবং গোলাগুলির পর বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকারী দল এবং ক্রু সদস্য এখনো ইরানের ভেতরে অবস্থান করায় তাঁদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের পাহাড়ি অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি F-15E স্ট্রাইক ইগল বিমান ভূপাতিত হয়। বিমানে থাকা দুইজন ক্রুর মধ্যে একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও দ্বিতীয়জন নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ এই ক্রুকে খুঁজতে শুক্রবার রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের একটি দল ইরানে প্রবেশ করে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চলাকালে উদ্ধারকারী দলকে ইরানি বাহিনীর ব্যাপক হামলার মুখে পড়তে হয়। এতে অভিযানে সহায়তাকারী একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ও আরেকটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারটি ছোট অস্ত্রের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিরাপদ স্থানে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, নিখোঁজ মার্কিন ক্রু’কে বন্দি করতে ইরানও পুরো এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেন তারা ‘শত্রু পাইলট’কে খুঁজে বের করতে সহায়তা করে। এমনকি তাকে ধরিয়ে দিতে পারলে বড় অঙ্কের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দেয় তেহরান।
দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে নিশ্চিতভাবে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও তিনি এখনো শতভাগ ‘নিরাপদ’ নন। কারণ উদ্ধারকারী দলকে শত্রুবেষ্টিত এলাকা থেকে আকাশপথে সীমান্ত পার হয়ে নিরাপদ ঘাঁটিতে ফিরতে হবে।
একই দিনে পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন A-10 অ্যাটাক এয়ারক্রাফট বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে সেটির পাইলট নিরাপদে কুয়েত সীমান্তে পৌঁছাতে পেরেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ৬ষ্ঠ সপ্তাহে এসে এই বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি সবচেয়ে বড় সামরিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জানিয়েছেন, এই ঘটনা ইরানের সঙ্গে চলমান কোনো আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করবে না। তবে উদ্ধারকারী দল ইরানি সীমান্ত পার না হওয়া পর্যন্ত পেন্টাগন কোনো আনুষ্ঠানিক বিজয় ঘোষণা করছে না।

