মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে উন্নয়ন কাজের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এক সরকারি প্রকৌশলীকে প্রকাশ্যে বাঁশ নিয়ে ধাওয়া করেছেন এক প্রভাবশালী ঠিকাদার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার শিবপুর এলাকায় এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
জানা গেছে, শিবপুর এলাকায় এলজিইডির একটি চলমান রাস্তার কাজ পরিদর্শনে যান উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে কাজের নিম্নমান দেখে তিনি আপত্তি জানান এবং সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার লোকমান হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তর্কের এক পর্যায়ে ঠিকাদার লোকমান হোসেন পাশ থেকে একটি বাঁশ তুলে নিয়ে প্রকৌশলীকে মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে যান। প্রাণভয়ে ওই সরকারি কর্মকর্তা দৌড়ে কোনোমতে নিজেকে রক্ষা করেন। মুহূর্তেই এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন স্থানীয়রা। ভিডিওতে দেখা যায়, ঠিকাদার লোকমান হোসেন অত্যন্ত অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে বাঁশ হাতে প্রকৌশলীর দিকে ধাবিত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, লোকমান হোসেন এলাকায় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানের অধীনে নবীনগরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। তবে প্রতিটি প্রকল্পেই:
নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার।
কাজের ধীরগতি ও দীর্ঘসূত্রতা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করার ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল একে “চরম লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
“বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। একজন সরকারি কর্মকর্তার ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা পুলিশকে অভিযুক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ঠিকাদার লোকমান হোসেনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আত্মগোপনে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
একজন সরকারি প্রকৌশলীকে দায়িত্ব পালনে বাধা এবং শারীরিক লাঞ্ছনার এই ঘটনাটি উপজেলার প্রশাসনিক ও সাধারণ মহলে এক চরম উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

