হাবিব আহমেদ
যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিতেই নয়, সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে আধুনিক দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন (অবকাঠামো উন্নয়ন) নির্মাতা ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীর সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো উন্নয়ন তার সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে।
১৯৯১ থেকে ২০০১সাল পর্যন্ত মেয়র ও পরে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এমপির দায়িত্ব পালনকালে তিনি রাজশাহীর অবকাঠামো উন্নয়নে মাইল ফলক উন্নয়ন করেছিলেন। বিশেষ করে সরকারী অফিসগুলো জরাজীর্ণতা থেকে মুক্তি পেয়েছিল মিুর উদ্যোগে। মিজানুর রহমান মিনুর উদ্যোগে অফিস আদালত পেয়েছিল আধুনিক ছোঁয়া। যা আজো দৃশ্যমান হয়ে আছে।
জানা গেছে, রাজশাহীর কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক জরাজীর্ণ ভবনে কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তিতে মিজানুর রহমান মিনু এই সরকারী প্রতিষ্ঠানে একটি আধুনিক বহুতল ভবন নির্বাণ করেন। বর্তমান দৃষ্টিনন্দন, আধুনিক যে ভবনে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়টি রয়েছে এটির নির্মাতা মিজানুর রহমান মিনু। ওই সময় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের বহুতল ভবনটির যে নকশা করা হয়েছি সেটির অবদান ছিল মিনুর। কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের বহুতল ভবন নির্মাণের পর দেখা যায়, এমন দৃষ্টিনন্দন ভবন উত্তরাঞ্চলে আর দ্বিতীয়টি ছিল না, এখনো নেই। মিনুর পর রাকাবে আর কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এমন কি যে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটি সংস্কারের প্রয়োজন হয়নি। কারণ মিনুর নির্মাণ করা এই আধুনিক বহুতল ভবন ছিল যেমন টেকসই, তেমনি ছিল আধুনিকতার ছোঁয়া।
এক সময় একটি মাত্র ভবনে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের কার্যক্রম চলতো। আদালতগুলোও ছিল জরাজীর্ণ। মিজানুর রহমান মিনুই প্রথম রাজশাহীর আদালত ও জেলা প্রশাসনের কার্যলায় আধুনিকরণ শুরু করেন। তিনি প্রথম পর্যায়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। মিজানুর রহমান মিনুই জেলা প্রশাসনের চারটি আধুনিক মানের বহুতল ভবন নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমান জেলা প্রশাসনের আধুনিক যে কার্যালয় রয়েছে সেটি মিজানুর রহমান মিনুর অবদান। মিনুর নির্মাণ করা এসব ভবনেই চলছে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম। প্রায় ২০ বছর পরও জেলা প্রশাসনের এসব আধুনিক বহুতল ভবনগুলো চির নতুন, চির সবুজ হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে। বেশ কয়েকটি আদালত ভবনও এমপি মিনুর উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়াও নতুন যে ভবন করা হয়েছে সেটির পরিকল্পনা করেছিলেন মিনুর রহমান মিনু।
সরকারী দপ্তরের মধ্যে রাজশাহী রেশম উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় সবকটি ভবনের নির্মাতা মিজানুর রহমান মিনু। রাজশাহী রেশম উন্নয়ন বোর্ড স্থাপনের পর এটিকে আধুনিকায়ন করেছেন মিজানুর রহমান মিনু। প্রথম অবস্থায় ছোট পরিসরে রাজশাহী রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম শুরু করা হলেও পরবর্তিতে আধুনিক মানের বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে এর পরিধি বৃদ্ধি করা হয়। আধুনিক মানের বহুতল ভবন নির্মাণ করে রাজশাহী রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রমকে গতিশীল করার পেছনের কারিগর ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। বর্তমান রাজশাহী রেশম উন্নয়ন বোর্ডের বহুতল ভবন ও রেশন কারখানা যে স্থাপনা রয়েছে সবগুলোই মিনুর অবদান। রাজশাহী রেশম উন্নয়ন বোর্ডে মিজানুর রহমান মিনুর নির্মাণ করা বহুতল ভবন ছাড়া বিগত দিনে আর কোনো নতুন ভবন তৈরি হয়নি।
শিল্প ও সাংস্কৃতি ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়নও ছিল মিজানুর রহমান মিনুর বড় অবদান। তিনিই প্রথম রাজশাহীতে কারচারালের জন্ম দিয়েছিলেন। তিনি নির্মাণ করেছিলেন রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমির আধুনিক মানের বহুতল ভবন। যা এখনো কালের সাক্ষিহিস দাঁড়িয়ে আছে। শিল্পকলা একাডেমি পুরোনো স্থাপনা হলেও এর কোনো ভাল মানের ভবন ছিল না। বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রেখে মিজানুর রহমান মিনু শিল্পকলা একাডেমিতে আধুনিক মানের বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। এছাড়াও শিল্পকলা একাডেমির বেশ কিছু কার্যক্রমও স্থগিত ছিল। মিনু নিজে উদ্যোগ নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম সচল করেছিলেন।
শুধু শিল্প ও সাংস্কৃতি ক্ষেত্রেই নয়, ধর্মীয় ক্ষেত্রে মিজানুর রহমান মিনু ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। তিনি নিজেও একজন ধর্মভিরু ও ধর্মপ্রাণ মানুষ। যার কারণে তিনি মেয়র থেকে এমপি দুই সময়েই যেমন নতুন নতুন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন, তেমনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন করেছেন। তিনিই প্রথম রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম রূপোস (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ নির্মাণ করেছিলেন। তিনি এই ঈদগাহ মাঠের চারিদিকে বাউন্ডারি দিয়ে মাঠকে সংস্কার করেন। হযরত শাহ মখদুম রূপোস (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ এক সময় উম্মুক্ত ছিল। স্থানীয়রা এ মাঠে গরু ছাগল চরাতো।
বিষয়টি মিজানুর রহমান মিনুর নজরে আসার পর এটি সংস্কারে হাত দেন। তিনি হযরত শাহ মখদুম রূপোস (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহর সামনে একটি আধুনিক মানের গেট নির্মাণ করেন। এছাড়াও ঈদগাহের চারিদিকে বাউন্ডারী দেন। এতে প্রাণ ফিরে পায় রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম রূপোস (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ। এছাড়ার মিনুর সময় রাজশাহী মহানগরীতে মসজিদের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। নতুন মসজিদ স্থান ও পুরোনো মসজিদের সংস্কার মিজানুর রহমান মিনুর সময়েই হয়েছিল।

