জাতীয় সংসদের ভোটের দিন ঘনিয়ে আসছে। তবে হঠাৎ যদি ঘোষণা আসে যে, আপনার আসনে ভোট হচ্ছে না, তাহলে কি ভোট বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের আছে? বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে।
নির্বাচন বন্ধ বা স্থগিত করার ক্ষমতা মূলত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ৯১ নম্বর ধারা ‘ক’-এর আওতায় রয়েছে। আইন অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ চলাকালীন ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা, প্রভাব বিস্তার, কারচুপি বা ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে নির্বাচন কমিশন সেই কেন্দ্র বা আসনের ভোট বন্ধ করতে পারে।
সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, “বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, চাপ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কারণে ভোট পরিচালনা করা সম্ভব না হলে, কমিশন ভোটগ্রহণ স্থগিত করতে পারবে।” অর্থাৎ, ভোটের আগে কোনো গোলযোগ হলেও ভোট স্থগিত করার সুযোগ নেই; ভোটের দিন ভোটগ্রহণ চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হলে নির্বাচন বন্ধ করা যাবে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার জেসমিন টুলি জানিয়েছেন, প্রিজাইডিং অফিসার নিজের নিয়ন্ত্রণ হারালে কেন্দ্র বন্ধ করতে পারে। এরপরও যদি বিষয়টি কমিশনের নজরে আসে, ইসি রিটার্নিং অফিসারকে কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দিতে পারে। এছাড়া, পুরো আসনের ভোট বাতিল করার ক্ষেত্রে কমিশনকে তদন্ত করে সত্যতা নিশ্চিত করতে হয়।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, “২০২৩ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে নির্বাচনী কেন্দ্র বা আসনের ভোট বাতিল করার ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের সংশোধনীর পর ইসি এই ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে।”
এ ধরনের ক্ষমতা শুধুমাত্র বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ভোটার নিরাপদে কেন্দ্রে যেতে না পারলে, প্রিজাইডিং অফিসার নিরপেক্ষতা হারালে বা কেন্দ্রীয় সহিংসতার কারণে ভোট পরিচালনা সম্ভব না হলে ভোট স্থগিত বা বাতিল করা হয়। অতীতেও উপনির্বাচনে একাধিক কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে। তবে পুরো দেশের সব আসনের ভোট একসাথে বন্ধ করার ক্ষমতা আইনে নেই।
সাবেক কমিশনাররা মনে করেন, সংশোধিত আইন নির্বাচন কমিশনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।

