গৌরীপুর, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার লাল খান উচ্চ বিদ্যালয়-এ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ফিস আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভাউচার বা অফিসিয়াল রসিদ ছাড়াই প্রতিজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রেজিস্ট্রেশন ফিস জমা দিতে গেলে কোনো অফিসিয়াল রসিদ না দিয়ে সাদা কাগজে ৫০০ টাকা লিখে ফিস গ্রহণ করা হয়। এতে কয়েকজন অভিভাবক ক্ষুব্ধ হয়ে ফিস না দিয়েই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নুহার অভিভাবক আসমানী আক্তার বলেন, “আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি।” একই অভিযোগ করেন বৃষ্টি আক্তারের অভিভাবক আকাশ মিয়া। তিনি বলেন, “প্রতিবারই এভাবে টাকা নেওয়া হয়, অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায় না।
বিশ্বনাথপুর গ্রামের শহিদুল্লাহ জানান, পূর্বেও বিদ্যালয়ে বই বিক্রির কারণে এলাকায় বিতর্ক হয়েছিল, কিন্তু কোনো বিচার হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, রেজিস্ট্রেশন ফিস সাধারণত ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে হওয়া উচিত। এর বেশি নেওয়া নিয়মবিরুদ্ধ। তবে তিনি অঙ্ক সুনিশ্চিত না হওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল হক স্বীকার করেন, ভর্তির জন্য নয়, রেজিস্ট্রেশন ফিস বাবদ ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে ভাউচার বা রসিদ না দেওয়ার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেননি।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমিন পাপ্পা বলেন, “৫০০ টাকা নেওয়ার কোনো বিধান নেই। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিভাবকরা দাবি করেছেন, দ্রুত তদন্ত করে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

