আনিসুর রহমান, সাভার প্রতিনিধি:
ঢাকার সাভারে মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগে একটি সক্রিয় চক্র সাধারণ মানুষকে প্রতারণার শিকার করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে এই চক্রটি সরকারি নথি জাল করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে সাভার মডেল থানায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমান্দিপুর ও আশপাশের এলাকায় বসে চক্রটি সরকারি দপ্তরের নাম ব্যবহার করে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। অনেকেই অজ্ঞতাবশত তাদের মাধ্যমে আবেদন করেন, পরে জাল সনদের কারণে নানা আইনি জটিলতার সম্মুখীন হন।
ভুক্তভোগী সাজু আহমেদ জানান, মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য তিনি মনির ও মিঠু নামের ব্যক্তির মাধ্যমে টাকা দিয়ে আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে পৌরসভায় ওয়ারিশ সনদের জন্য আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ নথি ভুয়া বলে জানান। স্বাক্ষর জাল করে তৈরি করা এই সনদে সাজু ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম বিপাকে পড়েন।
চক্রের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিক আনিসুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, চক্রের মূল হোতা মিঠুর কাছে তথ্য জানতে চাইলে তাঁকে ইমান্দিপুর এলাকায় ডেকে এনে অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
স্থানীয়রা জানান, মিঠু সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি কম্পিউটার দোকানে চাকরি করেন এবং ইমান্দিপুর চৌরাস্তার মুদি দোকান থেকে জন্ম, মৃত্যু, এনআইডি সংশোধনসহ বিভিন্ন নথি তৈরির নামে অবৈধ কার্যক্রম চালান। এছাড়াও, সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সংস্থা মার্কেটে টুটুল নামে আরেক ব্যক্তি একই ধরনের প্রতারণা করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা পরস্পরের যোগসাজশে সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, চক্রটি সরকারি দপ্তরের নাম ভাঙিয়ে সহজে কাজ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। অনেক সময় আসল নথির মতো দেখতে জাল সনদ তৈরি করে দেওয়া হয়, পরে এসব সনদ জমা দেওয়ার সময় মানুষ আইনি জটিলতায় পড়ে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, মৃত্যুর নিবন্ধন, জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডি সংক্রান্ত কাজ অনলাইনে হওয়ায় সাধারণ মানুষ দ্রুত সমাধানের আশায় মধ্যস্বত্বভোগীদের শরণাপন্ন হন। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলছেন, জালিয়াতি শুধু আর্থিক প্রতারণা নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।
সাভার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, কিছু কাগজপত্রে স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর দুটি সন্দেহজনক ডকুমেন্ট থানায় জিডি করতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকে সরাসরি সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে নাগরিক সেবা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

