পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজারে রমজানের প্রথম দিন সকাল থেকেই ভিড় জমে। শাহি মসজিদের সামনে সার্কুলার রোডের দুই পাশজুড়ে গড়ে ওঠা ইফতারি বাজার যেন নতুন রঙের খেলা শুরু করেছে। দোকানিরা সাজিয়ে বসেছেন নানা পদের ইফতারির পসরা—চিকেন কাঠি, কোয়েল পাখির রোস্ট, মুরগির রোস্ট, নান–রুটি, খাসির কাবাব, সবই যেন এক চোখ ধাঁধানো প্রদর্শনী।
জোহরের নামাজের পর থেকেই ক্রেতাদের ঢল। পুরান ঢাকার মানুষ ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে ভিড় করছেন পছন্দের পদগুলো কিনতে। আবদুল হক, সায়েন্সল্যাব এলাকা থেকে এসেছেন, খুঁজছেন মুরগি ও কোয়েল পাখির রোস্ট। তিনি জানান, “দাম আগের মতোই আছে, তবে মুরগি আর কোয়েল পাখির দাম সামান্য বেড়েছে। তবে ঐতিহ্যের বাজারে এসে আলাদা আনন্দ পাই।”
মো. জাকির হোসেন, রহমতগঞ্জ থেকে আসা একজন বিক্রেতা, বারবার যাচাই করছেন তার পসরা ঠিক মতো আছে কিনা। তিনি বললেন, “বাজার মোটামুটি স্বাভাবিক, শুধু মুরগির দাম একটু বেড়েছে, বাকিগুলো আগের মতোই আছে।” তাঁর পাশে মো. সালেহের একদম বিশাল আস্ত খাসির কাবাব দর্শকদের চোখে পড়ছে। “সবাই কিনবে এমন না, দেখতেও মানুষ ভিড় করছে,” তিনি বললেন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, কোয়েল পাখির রোস্ট বিক্রি হচ্ছে ৮০–৯০ টাকায়, চিকেন কাঠি ৫০–৬০ টাকা, মুরগির রোস্ট প্রতি পিচ ৩২০–৩৫০ টাকা। নানের মধ্যে দুধ নান ৬০ টাকা, স্পেশাল বাদাম নান ৮০ টাকা। ভারী আইটেমের মধ্যে খাসির লেগ ৮০০ টাকা, গরুর সুতি কাবাব ১,২০০ টাকা, খাসির সুতি কাবাব ১,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেটের দোকানি মামুন হোসেন প্রথম রমজানের ইফতারি কিনতে এসেছেন। তিনি বললেন, “দাম আগের মতোই মনে হয়েছে। কিছু আইটেমে সামান্য বেশি দাম চাচ্ছে, তবে মোটের ওপর আগের মতোই আছে। ঐতিহ্যের কারণে চকবাজার থেকেই ইফতারি নেওয়ার আলাদা আনন্দ আছে।”
দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজার আরও মুখর হয়ে ওঠে। বিক্রেতারা তৎপর, ক্রেতারা উচ্ছ্বসিত। ছোট–বড়, সবাই মিলে রমজানের প্রথম দিনটি উদযাপন করছে চকবাজারের রঙিন আড্ডায়। প্রতিটি ইফতারির প্যাকেট যেন শুধু খাদ্য নয়, বরং ঐতিহ্য, আনন্দ আর মানুষের মিলনের এক প্রতীক।
চকবাজারের রমজান শুরু হয়েছে হাসি, ভিড় এবং সুগন্ধে—প্রতিটি পদ, প্রতিটি রং, প্রতিটি মানুষ যেন এই ঐতিহ্যকে জীবন্ত রাখছে।

