সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্কের পরিপ্রেক্ষিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম পিএইচডি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াসউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জবিতে আগামী ২৫ নভেম্বর (সোমবার) থেকে ২৭ নভেম্বর (বুধবার) পর্যন্ত সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জানান, ভূমিকম্পের আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা বিপর্যস্ত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্লাস বন্ধের পর, আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে চলবে। এই অনলাইন কার্যক্রমে কোনো প্রকার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী আবাসন ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের ছাত্রীদের সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল সকাল থেকেই সব বিভাগীয় শহরের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল বাস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, ২৫ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত পরিবহন সেবা এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও উন্মুক্ত লাইব্রেরি বন্ধ থাকবে।
ভূমিকম্প-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ঝুঁকি যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নেতৃত্বে: লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডীন।
সদস্য: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞরা এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
প্রতিবেদন: কমিটিকে আগামী ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী ৪ ডিসেম্বর আবারও জরুরি সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিকভাবে চলবে এবং অফিসগুলো যথারীতি খোলা থাকবে। এছাড়া জকসু (JACSU) নির্বাচন কার্যক্রম বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
