জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে শালবন গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা ও ছেলে আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে গত ১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিকেলে উপজেলার কৃষ্ণনগর মৌজার হারাবতি নদীসংলগ্ন নালিশি ৭৮.৮ শতক জমি এলাকায়।
আহতরা হলেন দারাজ উদ্দিন ও তার ছেলে আরমান হোসেন (৩৭)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই সরকারি খাস জমি চাষ করে আসছিলেন দারাজ উদ্দিন। পরে পাশের ১৯ শতক জমি স্থানীয় আব্বাস উদ্দিনের কাছ থেকে কবলা করে নেন (মুক্তাদুল) মাস্টার। নদীভাঙনে তার ওই জমি বিলীন হলে তিনি দারাজ উদ্দিনের জমি দখলের চেষ্টা করেন এ নিয়ে বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী দারাজ উদ্দিন জানান, তিনি ১৯৯১ সাল থেকে কবুলিয়ত/ডিসিআর মূলে মোট ৭৮ শতক জমি ভোগদখল করে আসছেন। এর মধ্যে মুক্তাদুল মাস্টার পাশের ১৬ ১৯ শতক জমি কিনলেও নদীতে বিলীন হওয়ায় দারাজ উদ্দিনের সংস্কৃত জমির ৮ শতক দখলের চেষ্টা করেন।
বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়; ছেলে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন এবং ন্যায্য বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয় সাদ্দাম জোব্বার খাইরুল সহ একাধিক ব্যক্তিরা জানান, দারাজ দীর্ঘদিন ধরে এই খাস জমি ভূমিহীন হিসেবে চাষ করে হঠাৎ মুক্তাদুল এই ৮ শতাংশ জমি দখল করতে গিয়ে উভয় পক্ষেই হাতাহাতি হয়েছে আমরা এসে দেখি হাসপাতালে গেছে৷ তবে জমিতে মারামারি হয়েছে এটা আমরা জানি৷
অন্যদিকে আলোচিত শালবন গ্রামের শিশু তাসনিয়া হত্যা মামলার অন্যতম আসামী নাঈমের আপন চাচা অভিযুক্ত মোক্তাদুল মাস্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ১৯ শতক জমি কিনেছেন এবং আরও ১৬ শতক ১০ ১২ বছর ধরে চাষ করছেন। আমি কাউকে মারধর করিনি৷ অন্যপক্ষ অভিনয় করছে বলে দাবি করেন তিনি।
আহত মনোয়ার হোসেন জানান, তাঁর বাবা জমিতে কাজ করতে গেলে মোকতাদুল মাস্টার তাঁকে মারধর করেন। তিনি বাধা দিতে গেলে মোকতাদুল কোদালের ডাঁট দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে তাঁকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকদের পরীক্ষায় জানা যায়, তাঁর বাম কনুই ভেঙে গেছে।
মনোয়ার হোসেন আরও বলেন, মোকতাদুল মাস্টারের যদি জমি-সংক্রান্ত কোনো দাবি থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী সমাধান হওয়া উচিত। আমরা ভূমিহীন মানুষ তাহলে কেন জোর করে আমাদের খাস জমি দখল করতে আসবে৷
এ বিষয়ে বড়তারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন ওই জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের পরিষদে অভিযোগ ছিল দারাজ উদ্দিন বারবার আসার আসলেও অপর পক্ষ মুক্তাদুল না আসায় নথিজাত করা হয়েছে৷ পরে শুনলাম ওই জমিতে নাকি উভয় পক্ষে মারধর করা হয়েছে তারা আইনি সুরক্ষা পাক এটি আমার প্রত্যাশা৷
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নুরে আলম সিদ্দিকী অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

