শহীদুজ্জামান, শিমুল সাতক্ষীরা :
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭-এর প্রয়োগের মাধ্যমে সাতক্ষীরা সদরের সাতানী এলাকায় ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদরের পার-মাছখোলা গ্রামের মহিদ সরদারের প্রবাসী যুবক ছেলে ২৮ বছরের আব্দুল হাকিমের সাথে ওই শিক্ষার্থীর বিয়ে ঠিক হয়। রবিবার দুপুরে মেয়ের বাবার বাড়িতে বাল্যবিবাহের সব আয়োজন চলছিল। খবর পেয়ে কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং জন্মনিবন্ধন যাচাই করে তার অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন। তার বয়স ১৫ বছর ১০ মাস।
অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুল হাই সিদ্দিক, সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষাকর্মী বশিয়ার রহমান ও প্রবেশন প্রতিনিধি শিশুকর্মী আফসানা সুলতানা, ওয়ার্ড মেম্বার আজিজুর রহমান, ইউপি দফাদার সঞ্জয় কুমার এবং জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সাকিবুর রহমান বাবলা প্রমুখ।
পরে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী মেয়ের অভিভাবকদেরকে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী ছাত্রীর পরিবারকে আইনি পরামর্শ এবং দণ্ড সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এবং একই সাথে উপস্থিত কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ছাত্রীর অভিভাবকরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন এবং মেয়েকে ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা প্রদান করেন মেয়ের বাবা।
জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলা বলেন, আমরা বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স” আইন বাস্তবায়নের আমরা সবার সহযোগিতা চাই। “বাল্যবিবাহ একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ” এটি সমাজের জন্য একটি বার্তা।
উল্লেখ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা কমিটির এমন তৎপরতা এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে এবং প্রশংসিত হচ্ছে।

