শহীদুজ্জামান শিমুল, সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসকের পদক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল আখড়াখোলা মুকুন্দপুর আলিম মাদ্রাসা ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার (ইউপি) বাল্যবিবাহটি বন্ধ করে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নিষেধাজ্ঞা দেয়।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ আফরোজা আক্তার এই গোপন এই তথ্যটি জানতে পারেন এবং তিনি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অর্ণব দত্তকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার তার প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরাকে সমন্বয়ক করে একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দেন।
দুপুরে মেয়ের বাবার বাড়িতে বরপক্ষ আসার আগেই টিম সদস্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষাকর্মী বাসিয়ার রহমান, ঐ শিক্ষার্থীর মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মো. আব্দুল্লাহ, গ্রামপুলিশ মনিরুজ্জামান, তথ্য উদ্যোক্তা আলমগীর ঘটনা স্থলে পৌঁছে যান। তারা ঘটনার সত্যতা পান এবং বাল্যবিবাহটি প্রতিরোধ ও আইনগত নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত স্থগিত করেন।
টিম সদস্যরা জানান, জেলার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের কাজিরহাট ছোট কলসি গ্রামের এক যুবকের সাথে ঐ ছাত্রীর পরিবার বাল্যবিবাহ ঠিক করে আনুষ্ঠানিক আয়োজন করে।
এতে স্থানীয় ও আত্মীয়স্বজনদের দাওয়াত দেওয়া হয় এবং অনেকেই দাওয়াতে চলে আসেন। ঘটনা স্থলে উপস্থিতিদের দেশের প্রচলিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭, সরকারি অন্যান্য বাঁধা ও সহায়তা নিষেধ বিশেষ অবগত করা হলে তারা ভূল স্বীকার করেন। এ ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে ঐ ছাত্রীর মা ফতেমা খাতুন মুচলেকা দেন।
একই সময় প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এ বাল্যবিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে। মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না একইসাথে তার পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

