ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশের ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা-১৭ আসনের গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর পরিদর্শন করেন।
সকাল ১০টা ২১ মিনিটে ভোটাধিকার প্রয়োগের পর তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজ নেন। এ সময় কেন্দ্রের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এরপর তিনি পুলিশ সদর দফতরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিদর্শন করেন। সেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি ভিডিও ফিড এবং তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটার উপস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম উপস্থিত ছিলেন। তারা জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল যোগাযোগ করে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট নেন। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
পরে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় স্থাপিত অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ কক্ষ থেকেও ভোট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ভোটার উপস্থিতি, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন তিনি।
কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে এবং ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ রয়েছে। কোথাও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

