প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ভয়কে পেছনে রেখে ভোটকেন্দ্রে যেতে। তিনি বলেন, একটি ভোট শুধু সরকার নির্বাচন করবে না, বরং ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে এবং জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতের ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আপনার ভোট দেশের তরুণ, নারী ও সংগ্রামী জনগণের কণ্ঠকে শক্তিশালী করবে এবং বাধাহীন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ স্বরূপ দাঁড়াবে।”
তিনি আরও সকল প্রার্থীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান, নির্বাচনের ফল যাই হোক, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, পরাজয়ও তার অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাই মিলে নতুন, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করুন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচন কেবল নিয়মিত নির্বাচন নয়, এটি দেশের দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের প্রকাশ। ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের দাবি উচ্চারণ করবে, এবং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
গণভোটের প্রসঙ্গেও তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে না, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের পথও নির্ধারিত হবে। আমরা কি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারব, নাকি পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় ফিরে যাব— গণভোটই তার উত্তর দেবে।

