নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে পোস্টাল ব্যালটসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলে ইসি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। রোববার সকাল থেকে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে জড়ো হয়ে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেন।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করে ছাত্রদল সভাপতি রকিবুল ইসলাম বলেন, দাবি আদায় না হলে এবং নির্বাচন কমিশন তাদের বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিলে সারারাত ইসি ভবন অবরুদ্ধ করে রাখা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে অবাধ যাতায়াত ছিল, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কেউ যদি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রকিবুল ইসলাম আরও বলেন, ঐতিহাসিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে ছাত্রদল প্রচার কার্যক্রমে অংশ নেবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জাতীয়তাবাদী দলই আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিপুলসংখ্যক ছাত্রদল নেতা-কর্মী নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের সড়কে জমায়েত হতে থাকেন। এ সময় তারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তিনটি প্রধান অভিযোগ তুলে ধরেন।
ছাত্রদলের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমত—পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। দ্বিতীয়ত—একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে ইসি দায়িত্বশীল ও যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও দূরদর্শিতাহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তৃতীয়ত—বিশেষ রাজনৈতিক দলের সরাসরি প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন ও বিতর্কিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক বলে দাবি করে সংগঠনটি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

