ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত ৩৫ জন প্রার্থী নানা নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগ এনে হাইকোর্টে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করেছেন।
নির্বাচনি মামলা দেখার জন্য প্রধান বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চ পৃথকভাবে এসব মামলা গ্রহণ করেছেন এবং শুনানির জন্য স্থগিত করেছেন। আদালত নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ব্যালট, সিসিটিভি রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিজয়ী প্রার্থীদের নোটিশও জারি করা হয়েছে।
মামলাকারীদের মধ্যে বিএনপির ২১ জন, জামায়াতে ইসলামীর ১২ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এলডিপির একজন করে রয়েছেন।
বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে notable নামগুলো হলো— মাদারীপুর-১ আসনের নাদিরা আক্তার, নীলফামারী-২ আসনের শাহরিন ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মো. শরীফুজ্জামান, ঢাকা-১১ আসনের এম এ কাইয়ুম, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, ঢাকা-৫ আসনের মো. নবী উল্লাহ, গাইবান্ধা-৫ আসনের মো. ফারুক আলম, পাবনা-৩ আসনের মো. হাসান জাফির তুহিন, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের আকবর আলী, কুমিল্লা-১১ আসনের কামরুল হুদা, ঢাকা-৪ আসনের তানভীর আহমেদ রবিন এবং ঢাকা-১৬ আসনের আমিনুল হক।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা হলেন— খুলনা-৫ আসনের মিয়া গোলাম পরওয়ার, পিরোজপুর-২ আসনের শামীম সাঈদী, বরগুনা-২ আসনের ডা. সুলতান আহ্মেদ, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের ইলিয়াছ মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ইকবাল হোসেন ভূইয়া, লালমনিরহাট-১ ও ২ আসনের আনোয়ারুল ইসলাম রাজু ও ফিরোজ হায়দার, ঢাকা-৬ ও ৭ আসনের আব্দুল মান্নান ও মো. এনায়েতউল্লাহ, কক্সবাজার-৪ আসনের নূর আহ্মেদ আনোয়ারী এবং ঢাকা-১০ আসনের জসিমউদ্দিন সরকার।
বাকি দুই প্রার্থী হলেন— ঢাকা-১৩ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক ও চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এলডিপির ওমর ফারুক।
ঢাকা-৪ ও ঢাকা-১৬ আসনের দুটি মামলায় শুনানি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। প্রাথমিক শুনানার পর তিনি জানান, ঢাকা-১৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন এবং ঢাকা-৪ আসনে জামায়াতের সৈয়দ জিয়াউল আবেদিন।
মামলার পক্ষে আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, কোনো কিছু centros-এ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা স্বয়ং ব্যালটে সিল মেরেছেন এবং কিছু কেন্দ্রে ব্যালট বাতিলের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হয়েছে। তারা এছাড়া অভিযোগ করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিজয়ী প্রার্থীদের সহযোগিতা করেছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারার আওতায় নির্বাচনি অনিয়মের এই আবেদনগুলো হাইকোর্টের একক বেঞ্চের মাধ্যমে শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।

