সাজ্জাদ হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দিয়েছেন। এতে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল–সখীপুর) আসনের কয়েকজন প্রার্থীর আয়-সম্পদ ও মামলার তথ্য উঠে এসেছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তিনি বছরে ৩ কোটির বেশি টাকা সম্মানী পান। নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা ছিল—একটি খারিজ হয়েছে এবং অন্যটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনি স্নাতক পাস এবং পেশায় ব্যবসায়ী।
তার আয়ের উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে—বাড়ি ভাড়া থেকে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা, নিজস্ব ব্যবসা থেকে ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং ব্যাংকের বোর্ড মিটিং থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
সম্পদের বিবরণে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার নিজের নামে নগদ রয়েছে ১২ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ব্যাংকে তার জমা ৩১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তার নিজের নামে কোনো গাড়ি না থাকলেও স্ত্রীর নামে ৩ কোটি ২২ লাখ টাকার গাড়ি রয়েছে। তার কাছে ৮০ তোলা স্বর্ণ আছে। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৮০ ভরি স্বর্ণ ও চার সেট হিরার গয়না। নিজের নামে ২০ লাখ এবং স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। এছাড়া তার নামে একটি পিস্তল ও একটি শটগান রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার এবং তার স্ত্রী ৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার সম্পত্তির মালিক। অস্থাবর সম্পত্তির অর্জনকালীন মূল্য তার ক্ষেত্রে ৮৯ কোটি ৯২ লাখ এবং স্ত্রীর ক্ষেত্রে ৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান পেশায় শিক্ষক। তিনি এমএ পাস এবং তার স্ত্রী গৃহিণী। হলফনামায় তিনি তিনটি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন। শিক্ষকতা থেকে তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা এবং কৃষি থেকে আয় ২৩ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নগদ রয়েছে ২১ লাখ টাকা। এছাড়া তার নামে ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকার গৃহঋণ রয়েছে।
এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের তুলনায় তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ বেশি বলেও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

