সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী কাল ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রীর সাম্প্রতিক পরিদর্শনের পর খাল পুনঃখনন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
জানা গেছে, কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া থেকে মুকুন্দপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কাহারোল উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই খাল পুনঃখননের ফলে প্রায় ১২০০ হেক্টর কৃষিজমি সেচের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে প্রায় ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের অংশ হিসেবে খালের মুখে একটি রেগুলেটর নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে পানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সংরক্ষণ করা যাবে। সংরক্ষিত পানি পরবর্তীতে শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় রেগুলেটরের সঙ্গে একটি অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ করবে।
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, “খাল পুনঃখননের পাশাপাশি একটি আধুনিক রেগুলেটর স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে বর্ষাকালে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সংরক্ষিত পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষক মমিনুল ইসলাম বলেন , দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছেন। খালটি পুনঃখনন হলে একদিকে যেমন জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, অন্যদিকে বর্ষাকালে জমিতে পানি জমে থাকার সমস্যাও কমে যাবে।
কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন , সেচ সুবিধা বাড়লে তাদের ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ও মুকুন্দপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষকরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। একই সঙ্গে এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

