রাজধানীর মগবাজার,বাংলা মটর, কারওয়ান বাজার ও হাতিরঝিল এলাকায় ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ভিন্ন দলের মানুষদের অপহরণ, বাংলা মটর এলাকায় নিজস্ব টর্চার সেলে নির্যাতন, পুরো এলাকায় চাঁদাবাজি এবং মাদক বিক্রি করে যুবসমাজকে ধ্বংস করে দেয়া, লুটপাট ও মব ভায়োলেন্সসহ শতাধিক অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অবশেষে যুবদল নেতা ফেরদৌস আহমেদ সায়মন ওরফে মাউরা সায়মনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানায়।
বহিষ্কৃত ফেরদৌস আহমেদ সায়মন ওরফে মাউরা সায়মন হাতিরঝিল থানার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক পদে ছিলেন। দলীয় পদ ব্যবহার করে তিনি এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম মাউরা সায়মন, ভেজাল তাহের, কাইল্লা রিদয়, ভুট্টু রিদয় অন্যতম।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সায়মন গং এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তাঁর দাবিকৃত চাঁদা দিতে কেউ অস্বীকৃতি জানালে বা দরকষাকষি করলেই ‘সায়মন বাহিনী’র সদস্যরা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ওই ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যেত।ওদের সাথে রয়েছে ডিবি পুলিশকে ভুয়া জ্যাকেট এবং ওয়াকিটকি।
অভিযোগ রয়েছে, গোপন টর্চার সেলে আটকে রেখে ভুক্তভোগীর ওপর চালানো হতো পৈশাচিক নির্যাতন। মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ পেলে ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়া হতো। আর টাকা না দিলে হাত-পা বেঁধে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো। ভয়ে অনেকে জমি বা সম্পদ বিক্রি করে সায়মনের হাতে টাকা তুলে দিতে বাধ্য হতেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কেবল অপহরণ কিংবা মুক্তিপণ আদায়ই নয়—সায়মনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো শতাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তিনি মগবাজার এলাকায় ‘মব জাস্টিস’ বা মব ভায়োলেন্সের নাটক সাজিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে আসছিলেন। বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট এবং চুরির ঘটনাতেও তাঁর বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সায়মনের অপকর্মের সর্বশেষ শিকার হন একজন ব্যবসায়ী কাজী রিয়াদ হাসনাত। ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে তাঁকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করা হয়, যার ক্ষতচিহ্ন প্রকাশিত ছবিতে স্পষ্ট দেখা গেছে।
সায়মনের এসব অপকর্ম এবং শতাধিক অভিযোগ কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসার পর গতকাল তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ফেরদৌস আহমেদ সায়মন ওরফে মাউরা সায়মনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
দীর্ঘদিন ধরে মাউরা সায়মন- ভেজাল তাহের-কাইল্লা রিদয় ও ভুট্টো রিদয় সহ এই সংঘবদ্ধ চক্রের ভয়ে তটস্থ থাকা মগবাজার ও বাংলা মটর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বহিষ্কারের খবরে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, কেবল বহিষ্কারই যথেষ্ট নয়; গুম, অপহরণ ও লুটপাটের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত সায়মনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

