জাবেদ শেখ, শরীয়তপুর প্রতিনিধি।
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় মাছ চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাছের ঘেরের মালিক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আহত সেলিম পাইক (৩২) উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরী এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত মতলব আলী পাইক। অভিযুক্ত শাহিন মাদবর (৩৮) শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পালং এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়ভাবে মাছের ঘের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং শরীয়তপুর জেলা আন্তঃপরিবহন মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি একটি মাছের ঘেরের ভেতর থেকে সেলিমকে টেনে পাড়ে তুলছেন। পরে আরও কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে গাছের ডাল দিয়ে বেধড়ক মারধর করছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, তার হাত রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তি তার পায়ে বারবার আঘাত করছেন। পাশে কয়েকজন দাঁড়িয়ে ঘটনাটি দেখছিলেন। ভিডিওতে সেলিমের আর্তচিৎকার স্পষ্ট শোনা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরে তাকে মারধরের পর ইকুরী এলাকায় ফেলে রাখা হয়। অবস্থার অবনতি হলে অভিযুক্ত পক্ষই পরে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
ইকুরী এলাকার বাসিন্দা সোহরাব মোল্লা বলেন, ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি কয়েকজনকে একজন যুবককে পুকুরপাড়ে মারধর করতে দেখেন। পরে আবার ফিরে এসে একই দৃশ্য দেখতে পান। তার ভাষায়, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক।
অভিযুক্ত শাহিন মাদবর মারধরের কথা স্বীকার করে দাবি করেন, কয়েক মাস আগে তার ঘের থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ চুরি হয়েছিল এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা রয়েছে। তার অভিযোগ, ভোরে আবার কয়েকজন জাল ফেলতে এলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে সেলিম ধরা পড়ে। তখন উত্তেজিত লোকজন তাকে মারধর করে।
তবে সেলিম পাইক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি মাছ চুরির সঙ্গে জড়িত নন। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর করে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন তিনি।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, মাছ চুরির সন্দেহকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তদন্তের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

