বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সাদুল্যাপুর বটতলা গ্রামে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা কুয়েত প্রবাসী ইদ্রিস আলীর বাড়িতে ঢুকে লুটপাটের পর তার স্ত্রী ও কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
নিহতরা হলেন রানী বেগম (৪০) ও তার ছেলে ইমরান হোসেন (১৮), যিনি বগুড়ার নিশিন্দারা ফকির উদ্দিন স্কুল ও কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইদ্রিস আলী প্রায় আট বছর ধরে কুয়েতে চাকরি করেন। বাড়িতে তখন স্ত্রী ও ছেলে ছিলেন। সকালে রাজমিস্ত্রি এসে ডাকাডাকি করেও সাড়া পাননি। পরে গ্রামবাসীরা ডাকাডাকি করতে গিয়ে জানালা দিয়ে ঘরের মধ্যে রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান এবং শিবগঞ্জ থানার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। সিরাজগঞ্জ থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন টিমও আলামত সংগ্রহের জন্য এসে তদন্তে অংশ নিয়েছে। নিহতদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, বাড়িতে হাসান নামে একটি পালিত এতিম যুবক থাকতেন, যাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মা ও ছেলের মোটরসাইকেল, নগদ টাকা ও কয়েক ভরি সোনার গহনা লুটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিচিতরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। শিগগিরই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিহতদের লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

