সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর :
দিনাজপুর চিরিরবন্দরে কৃষকের সেচ সুবিধার জন্য নদীতে নির্মিত তিনটি রাবার ড্যাম দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে নদীতে পানি না থাকায় চলতি বোরো মৌসুমে অন্তত আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে গভীর ও অগভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করায় কৃষকের উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে।
উপজেলার সাঁইতাড়া ইউনিয়নের কাঁকড়া নদীতে সাঁইতাড়া রাবার ড্যাম, পুনট্টি ইউনিয়নের আত্রাই নদীতে মোহনপুর রাবার ড্যাম এবং শুকবেদপুর গ্রামের চিরিনদীতে শুখদেবপুর রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল শুকনো মৌসুমে নদীর পানি ধরে রেখে কৃষকদের সেচ সুবিধা দেওয়া। কিন্তু নানা ত্রুটি ও ব্যবস্থাপনার সমস্যায় এই তিনটি ড্যামই এখন কার্যত অচল হয়ে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আত্রাই নদীর একটি শাখা কাঁকড়া নদী এবং কাঁকড়া নদীর শাখা চিরিনদী। সম্প্রতি আত্রাই ও কাঁকড়া নদীতে খনন কাজ করা হলেও তা সম্পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যে মোহনপুর রাবার ড্যামের দুটি রাবার ব্যাগ ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় সেখানে পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে কাঁকড়া নদীর সাঁইতাড়া রাবার ড্যাম চালু না থাকায় চিরিনদীতে পানি পৌঁছাচ্ছে না। ফলে শুখদেবপুর রাবার ড্যামটিও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সেচ প্রকল্পের উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা এই রাবার ড্রাম প্রকল্প কোন কাজে আসছে না। সরকারের কোটি কোটি টাকা নষ্ট হয়ে হয়ে যাচ্ছে।
কৃষকরা জানান, নদীতে পানি না থাকায় তাদের বাধ্য হয়ে নলকূপের পানি দিয়ে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে প্রতি বিঘা জমিতে তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
ভিয়াইল ইউনিয়নের কৃষক হায়দার আলী বলেন, প্রায় প্রতি বছর বোরো মৌসুমে মোহনপুর রাবার ড্যাম নষ্ট হয়ে যায়। আবার বর্ষা এলেই ঠিক হয়ে যায়। কৃষকের উপকারের জন্য ড্যাম করা হলেও এখন তা কোনো কাজে আসছে না।
একই গ্রামের চাষে মাইনুল ইসলাম বলেন, নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষির উৎপাদন খরচ কম হবে এই প্রকল্পে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কৃষকের কোন কাজে আসছে না সরকারের এ প্রকল্প নিয়ে পুনরায় কাজ করা উচিত।
ভিয়াইল হালকা সেচ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম জানান, তাদের প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬০০ একর জমিতে সেচ দেওয়া হয়। কিন্তু মোহনপুর রাবার ড্যামের নানা সমস্যায় তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়েছেন। তিনি বলেন, “বর্ষা মৌসুমে রাবার ফুলিয়ে পানি আটকে রাখা হয়, কিন্তু শুকনো মৌসুমে পাইপে ফুটো বা বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার অজুহাতে ড্যাম চালু রাখা যায় না। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য কৃষি অফিসে অভিযোগ করেছি।
পূর্ব সাঁইতাড়া গ্রামের কৃষক কার্তিক রায় বলেন, কয়েক বছর ধরে চিরিনদীতে পানি আসছে না। সাঁইতাড়া রাবার ড্যাম চালু না থাকায় চিরিনদীতে পানি পৌঁছায় না, ফলে শুখদেবপুর রাবার ড্যামও অচল হয়ে আছে। এতে কৃষকদের সেচ খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
মোহনপুর রাবার ড্যামের পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বলেন, “ড্যামের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ও পাইপে ফুটো থাকার কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা বলেন, কয়েক বছর ধরে মোহনপুর রাবার ড্যাম নষ্ট থাকায় কৃষকরা নদী থেকে পানি তুলতে পারছেন না। আত্রাই নদী গভীরভাবে খনন হওয়ায় উজানের পানি সেদিকেই বেশি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে কাঁকড়া ও চিরিনদীতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তিনটি রাবার ড্যামের সুফল কৃষকরা ঠিকভাবে পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নদী খনন ও ড্যাম মেরামতের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

