মো. আব্দুল কুদ্দুস, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ঘাসের জমি থেকে উদ্ধার গলাকাটা লাশের পরিচয় মিলেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের চরাচিথুলিয়া চরপাড়া গ্রামের একটি জমি থেকে এক কিশোরের লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রাতে তার পরিচয় শনাক্ত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, লাশটি মোস্তাকিম হোসেন জাহিদ (১২) নামে পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার নজরানা ক্লাসের আবাসিক ছাত্রের। সে একই ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের কৃষক মানিক মিয়ার ছেলে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টার পর সে মাদ্রাসা থেকে উধাও হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় তার বাবা মাদ্রাসায় এসে বিষয়টি জানতে পেরে প্রথমে আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ নেন। কোথাও খুঁজে না পেয়ে রাতেই আতাইকুলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিহত মোস্তাকিমের বাবা মানিক মিয়া জানান, তিন মেয়ের পর তার এই ছেলের জন্ম হয়েছে। ফলে সে তার খুবই আদরের সন্তান। হাফেজ বানাতে ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়তে দিয়েছিলেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, শনিবার দুপুরে চরাচিথুলিয়া চরপাড়া গ্রামের এক কৃষক জমিতে ঘাস কাটতে গিয়ে অজ্ঞাত এক কিশোরের গলাকাটা লাশ পরে থাকতে দেখে আশপাশের লোকজনকে জানায়। মুহূর্তেই শত শত মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানার ওসিসহ পুলিশের একটি দল বেলা ৩টার দিকে পাঞ্জাবি ও পাজামা পরিহিত লাশটি উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, বলাৎকারের পর গলা কেটে ছেলেটিকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের শিকার কিশোরের পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যার কারণ উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করে। অপরদিকে সিরাজগঞ্জ সিআইডি পুলিশের একটি দল লাশের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে ও পিবিআই দলের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহ করেন। পরে লাশটি শাহজাদপুর থানায় নেওয়া হয়। রাত ৮টার দিকে লাশের ছবি, পোশাক ও পায়ের স্যান্ডেল দেখে তারা পরিবারের সদস্যরা পরিচয় শনাক্ত করেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে এক কিশোরের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয় ও আশপাশের সব থানায় বার্তা পাঠানো হয়। আজ রবিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিরাজগঞ্জ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

