নবীন মাহমুদ
আসন্ন ত্রোয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি ১ আসনে এখনোপ্রার্থী দেয়নি বিএনপি। শোনাযাচ্ছে, জোট বা সমমনা দলকে দেওয়া হবে এই আসনটি। স্থানীয় নেতা ও সাধারণ ভোটাররা বলছেন, সেটি হলে ‘ধানের শীষের নিশ্চিত’এই আসনে পরাজয়ের ঝুঁকিতে পড়বে দলটি। কারণ জোট বা সমমনা দলের প্রার্থী হিসাবে যার নাম শোনা যাচ্ছে-তাকে চেনেই না এলাকার মানুষ। জামায়াতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপরীতে ভোটের মাঠে এ কতটা দাঁড়াতে পারবেন তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
ঝালকাঠী-১(রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) বিএনপির কাছ থেকে আসনটি পাওয়ার আশায় মাঠে আছেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। ইতিমধ্যে তিনি ঝালকাঠির রাজাপুরে ভোটার হওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করে ফেলেছে গত সোমবার এখানে বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন দলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, সাবেক ছাত্রদল নেতা গোলাম আজম সৈকত ও নিউইয়র্ক বিএনপির নেতা সেলিম রেজা। দলের কাউকে প্রার্থী না করে এখানে স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ফয়জুল হককে অঘোষিত সমর্থন দিয়েছে জামায়াত। বর্তমানে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও মালয়েশিয়া বিএনপির একসময়কার নেতা ফয়জুল হক ঝালকাঠীর সবার কাছে শ্রদ্ধেয় মরহুম কায়েদ সাহেব হুজুরের নাতি। এলাকায় রয়েছে তার ভালো অবস্থান।এদিকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ক্বারি ইব্রাহিম আল হাদীকে তারও আছে মোটামুটি সুপরিচিত।
এবিষয়ে রাজাপুর ও কাঠালিয়ায় উপজেলার দায়িত্বশীল একাধিক বিএনপি নেতার সাথে কথা বল্লে জানান, এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল পূর্বে। সাবেক বিএনপি নেতা ব্যরিষ্টার শাহাজাহান ওমর থাকাকালীন সময়ে। কিন্তু তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান কারবার পরে কিছুটা শূন্যতা তৈরি হলেও আস্তে আস্তে আমরা তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। এখন আবার সেই পুরনো দিনের মতো বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিনিত হয়েছে রাজাপুর- কাঠালিয়া।বর্তমানেও বিএনপি থেকে কেউই নির্বাচন করবে এই আসেন এটাই আমাদের চাওয়া।এখন যদি কোন শরীক দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে আমাদের মাঝে পাঠান কেন্দ্র থেকে সিনিয়র নেতারা। আমরা কেন্দ্রেয়ীর সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা কতটা মেনে নিবে তা বলা যাচ্ছে না।
২০১৮-এর নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসনে ইরানকে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। তখন তিনি ধানের শীষ নিয়েও প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান তিনি। ঝালকাঠী-১ আসনের সাধারণ ভোটাররা তাকে চেনে না বললেই চলে। এখানে লেবার পার্টির তেমন সাংগঠনিক ভিত্তি বা কর্মী-সমর্থক নেই। মনোনয়ন পেলেও বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে কতটুকু সহায়তা করবে, তা নিয়েও রয়েছে সংসয়
এ বিষয় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. শাহাদাত হোসেন বলেন,‘নিরপেক্ষ নির্বাচনে ঝালকাঠী-১ আসনে কখনোই হারেনি বিএনপি। আসনটি অন্য কোনো দলকে দেওয়া হলে তা হবে দুঃখজনক। তাছাড়া অচেনা-অজানা কেউ চাইলেই এখান থেকে এমপি হতে পারবেন-সেটা ভাবাও ভুল তারপরও দল যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটাই আমার সিদ্ধান্ত।
এদিকে লেবারপার্টির নেতাকর্মীরা রাজাপুর – কাঠলিয়ায় রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা ও আনারস মার্কার প্রচারপত্র বিতরন করছে।

