ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলের ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও লিফলেট ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্র দখলের হুমকিও দিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৮ আসনের বিভিন্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এদিন জুমার নামাজের পর খিলক্ষেত থানার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয় এবং লিফলেট ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া বরুয়া শেলুন পাড়ার বায়তুল আমান জামে মসজিদের সামনে শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে লিফলেট বিতরণকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা মুরাদ কাজী দলবসহ সেখানে গিয়ে জোরপূর্বক লিফলেটগুলো ছিনিয়ে নেন। এছাড়া ১২ তারিখ ভোটকেন্দ্রে গেলে ‘দেখে নেওয়া হবে’- এমন হুমকিও দেন।
একইদিন বাদ আসর বরুয়া বাজার এলাকায় শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানো একটি মাইকিং রিকশা নিয়ে যায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় ১১ দলীয় জোটের নারী সদস্যদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা এবং কটুক্তি করেছে তারা।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, ‘প্রচারণাকালে সেখানে ১১ দলীয় জোটের কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। আগামী ১২ তারিখ নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হবে না এবং ভোটকেন্দ্রে গেলে ‘দেখে নেওয়া হবে’- এমন হুমকিও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ওই এলাকায় প্রচারণায় গেলে মারধরের হুমকি দেন সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা।’
এ ঘটনায় নিন্দা ও বিচারের দাবি জানিয়ে ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলের ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো দেশ যখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তাকিয়ে আছে, তখন একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বানচালে মরিয়া। ঢাকা-১৮ আসনে শাপলা কলি মার্কারের বিপুল গণজোয়ার দেখে ভীত ও দিশেহারা ব্যক্তিরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে বিচারের দাবি করছি।’
এদিকে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৮ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রচারণা জোরদার হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনার কারণে এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশকে নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

