মীর ইমরান,মাদারীপুর প্রতিনিধি
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদারীপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নিজের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মাদারীপুর জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোঃ জামিনুর হোসেন মিঠু।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শহরের একটি স্থানীয় মিলনায়তনে জেলা কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অ্যাডভোকেট জামিনুর হোসেন মিঠু বলেন, “জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে মাদারীপুরকে একটি আধুনিক,পরিকল্পিত ও বৈষম্যহীন মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি জানান, নাগরিক ভোগান্তি কমাতে পৌরসভার সেবাগুলোকে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। জন্মনিবন্ধন,হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন। পৌরবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। তিনি কিশোর গ্যাং দমন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং পৌর এলাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালুর আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক সায়েম বেপারী এবং জেলা জাসাসের সদস্য সচিব মনজুরুল ইসলাম শহীদ। তারা বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর নির্বাচনি প্রচারণা পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, দলীয় ঐক্য ও সুপরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা যাবে। ইফতার মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুদৃঢ়করণ এবং বিশেষ করে মাদারীপুর পৌরবাসীর সুখ-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামিনুর হোসেন মিঠুর আনুষ্ঠানিক প্রার্থিতা ঘোষণার মাধ্যমে মাদারীপুর পৌর রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ডিজিটাল সেবা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি ভোটারদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারে।
আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে পৌর রাজনীতির মাঠ আরও সরগরম হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

