উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় রাজনৈতিক মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে সংখ্যালঘু ভোটার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থকরা—এমন আলোচনা এখন সর্বত্র।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, নির্বাচনী সুবিধা আদায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিজ নিজ পক্ষে ভেড়াতে বিএনপি ও জামায়াত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে গোপনে ও প্রকাশ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে একটি দালালচক্র অর্থ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গুটিকয়েক প্রভাবশালী নারী নেত্রী ও মূল দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে—যারা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দলে ভেড়ানোর নাম করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
এতে বিএনপির ত্যাগী ও শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। দলীয় একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিছু হাইব্রিড ও দালাল শ্রেণীর নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় অসাধু সদস্য একত্রে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছেন, যা দলের ভাবমূর্তি ও প্রার্থীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে বিএনপির বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বলেন,
“আমি অতীতে বহু হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু কখনোই কাউকে হয়রানি বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেইনি। দলের নামে যদি কেউ এসব করে থাকে, তা সম্পূর্ণ অনৈতিক।”
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নান বলেন, “বরিশাল-২ আসনের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সকল সম্প্রদায়ের মানুষ মিলে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে জামায়াতকে বিজয়ী করবেন—ইনশাল্লাহ।”
সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত যে কোনো নির্বাচনের তুলনায় এবার উজিরপুরে ভোটের হিসাব-নিকাশ অনেক বেশি জটিল। ভোটাররা আগের চেয়ে অনেক সচেতন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সকল দল সমান সুযোগ পাবে। প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে এবং কাউকে কোনো ধরনের অবৈধ প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হবে না।”

