গণভোটের সময় নির্ধারণ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনও দৃশ্যমান কোনো সমঝোতার অগ্রগতি হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার দলগুলোর মধ্যে নিজেদের উদ্যোগে আলোচনা করে এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর আহ্বান জানিয়েছিল। সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকের পর তিন দিন পার হলেও আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি নেই।
জানা গেছে, বিএনপি বলয় এবং জামায়াতসহ আটটি মিত্র দল নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে। এ অবস্থায় সমঝোতার জন্য অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জামায়াত। কমিটিতে আছেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। অন্যদিকে, বিএনপি-জামায়াতের অবস্থান নরম করতে গণতন্ত্র মঞ্চ, এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদ ও এবি পার্টিসহ ৯ দল নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছে।
পল্টনে এক সমাবেশে ডা. তাহের জানান, আলোচনা শুরুতে জামায়াত বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর কোর্টে বল ঠেলে ‘চালাকি’ করছে। তার দাবি, জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে হবে—এটির আগে নয়।
অন্যদিকে, জামায়াত বলছে, সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরও গণভোট করা আইনগতভাবে সম্ভব এবং নির্বাচনের আগেই গণভোট দিতে হবে।
সমঝোতার চেষ্টা করা ৯ দলের পক্ষ থেকে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, উভয় পক্ষকেই কিছুটা ছাড় দিতে হবে, নইলে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলগুলো যদি এক সপ্তাহের মধ্যে একক দিকনির্দেশনা না দেয়, সরকার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, এ বিষয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি চলছে।
এ পরিস্থিতিতে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও অন্যান্য দল মনে করছে—সমঝোতা উদ্যোগ সরাসরি সরকারের পক্ষ থেকেই আসা উচিত।

