সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারে এক তরুণীর অশ্লীল ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে এক প্রবাসী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি উজ্জ্বল চন্দ্র বিশ্বাস (৩৫)। তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উত্তর কলিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন পর্তুগালে অবস্থান করছিলেন।
র্যাব জানায়,ভুক্তভোগী তরুণী মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার রায়শ্রী এলাকার বাসিন্দা এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক মৌলভীবাজার শাখার সহকারী সম্পর্ক ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে উজ্জ্বল চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে উজ্জ্বল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন।
পরবর্তীতে উজ্জ্বলের মা ও বোন ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগীর পরিবার তাকে দেশে এসে ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী বিয়ে করার কথা জানায়। গত ১৪ জুন ২০২৪ তারিখে উজ্জ্বলের মা ও বোন ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আশীর্বাদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন।
এরপর উজ্জ্বল ভুক্তভোগীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। এ সময় তিনি কৌশলে ভুক্তভোগীর কিছু ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে উজ্জ্বল ভুক্তভোগীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি হুমকি দেন যে,টাকা না দিলে অন্যত্র বিয়ে করবেন এবং ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবেন।
পরে তিনি দেশে ফিরে গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর ভুক্তভোগীর পরিবার প্রতিবাদ করলে তিনি আবারও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী,পরবর্তীতে উজ্জ্বল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর অশ্লীল ছবি তৈরি করে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এসব ছবি মুছে ফেলার অনুরোধ করলে তিনি আবারও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে আরও ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এর ৮(২), ৮(৩) ও ৮(৪) ধারায় দায়ের করা হয়।
মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। পরে গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে র্যাব-৯ এর একটি দল মৌলভীবাজার পৌরসভার উত্তর কলিমাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

