রাজধানীর পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর পূর্তিতে আবারও আলোচনায় এসেছে বিডিআর হত্যাকাণ্ড। নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় নানা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার।
নির্বাচনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, জনগণের রায়ে ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পুনর্বহাল করা হবে। পাশাপাশি ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ বা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পর এ বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত অনুবিভাগ জানায়, বিডিআরের নাম পুনর্বহালের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ফাইল প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রস্তাব এলে দ্রুত কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানানো হয়।
এদিকে, পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবসকে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শোকবার্তায় শহীদ সেনা সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পুনরায় তদন্ত করা হবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ তাদের প্রতিবেদনে তৎকালীন সরকার ও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে। প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার কথাও বলা হয়। তবে বর্তমান সরকার ওই প্রতিবেদনের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না।
অন্যদিকে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এক বক্তব্যে বলেন, পিলখানার হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৭৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা, যার মধ্যে বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদও ছিলেন। এছাড়া নারী ও শিশুসহ আরও ১৭ জন প্রাণ হারান।
হাইকোর্টে জমা দেওয়া মামলার নথি অনুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে বার্ষিক দরবার চলাকালে হঠাৎ বিদ্রোহ শুরু হয়। বিদ্রোহীরা অতর্কিতে গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং পরে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। পরদিন সন্ধ্যায় বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ করে।
ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পিলখানা ট্র্যাজেডির প্রকৃত কারণ ও পেছনের ষড়যন্ত্র নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। নতুন তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের প্রত্যাশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

