আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরো:
পবিত্র ঈদুল ফিতরের বোনাসের দাবিতে কর্মবিরতিতে নেমেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। টানা দুই দিন কাজ বন্ধ থাকায় নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে বর্জ্যের স্তূপ জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতি বুধবারও অব্যাহত থাকে। এ সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নগরীর সদর রোডে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
কর্মবিরতির কারণে সদর রোড, নবগ্রাম সড়ক, দিনবন্ধু সেন সড়ক, বগুড়া সড়ক ও বিএম স্কুল সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির ময়লা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এসব বর্জ্য কুকুর ও বিড়াল টেনে ছড়িয়ে দেওয়ায় পরিবেশ দূষণ আরও বেড়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বিসিসির শ্রমিক হরিজন সানু লাল বলেন, “গত বছর আমরা ঈদের বোনাস পেয়েছি। এবার বোনাস চাইতে গেলেই চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হচ্ছে। আমরা প্রায় ১ হাজার ৩০০ শ্রমিক কাজ করি। ঈদের সময় বোনাস না পাওয়া আমাদের জন্য কষ্টের।”
বিসিসির ট্রাকশ্রমিক সোহেল বলেন, “ঈদ বোনাস না দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাত থেকেই আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি। বোনাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কাজে ফিরব না।”
১২ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. জামাল অভিযোগ করে বলেন, “আমরা ৩০ দিন কাজ করলেও বেতন পাই ২২ দিনের। গত বছর উৎসব ভাতা ও ইফতার ভাতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার প্রশাসন হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে বোনাস বন্ধ করেছে।”
বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, সিটি করপোরেশনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করেন। প্রতিদিন নগরী থেকে প্রায় ১৯০ থেকে ২০০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। কর্মবিরতির কারণে গত দুই দিনে এসব বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরিশালের সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করা জরুরি। অন্যথায় রাস্তায় জমে থাকা বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বোনাস দেওয়ার কোনো বিধান পরিপত্রে নেই। আগে মেয়ররা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় অনুদান দিতেন। বর্তমানে তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে।

