চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) কর্তৃক রোপিত বনজ গাছ কেটে উজাড়ের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, দিনের বেলায় জনবহুল সড়কের পাশ থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা মূল্যের শিশু গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলা না করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামবাড়ীয়া কলেজ সংলগ্ন ভোলাহাট-শিবগঞ্জ সড়কে সম্প্রতি কয়েকটি বনজ গাছ কেটে ট্রলিতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীরা ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ভোলাহাট বরেন্দ্র উন্নয়ন জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো. লোকমান হাকিম ভোলাহাট থানায় একটি জিডি করেন বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম এলাকায় প্রচলিত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা দায়ের বা দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, “প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া ছাড়া দিনের আলোতে এভাবে সরকারি গাছ কাটা সম্ভব নয়।” তারা দাবি করেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী মো. লোকমান হাকিম বলেন, “ঘটনার পর থানায় জিডি করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ ও সাক্ষ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে কারা গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।
উল্লেখ্য, এর আগেও উপজেলার শিকারী এলাকায় গভীর নলকূপ সংলগ্ন স্থানে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হলেও কোনো মামলা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন সড়কে রোপিত বনজ গাছের সঠিক হিসাব প্রকাশ করতে হবে। কত গাছ রোপণ করা হয়েছে, কত গাছ কাটা হয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসমক্ষে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় বিএমডিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

