টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ১৯ দিন বাকি থাকলেও বাংলাদেশ দল এই টুর্নামেন্টে খেলবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে বিসিবির অনড় অবস্থানের কারণে বিশ্ব ক্রিকেটে এখন এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর মধ্যেই খবর এসেছে, বাংলাদেশের এই দাবিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানও তাদের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের দাবি অনুযায়ী, ভারত সফরে দল না পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পিসিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশের দাবি যুক্তিসংগত এবং তা পূরণ করা না হলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত বদলে ফেলতে পারে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বৈরিতার কারণে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরেই তলানিতে, যা সাম্প্রতিক এশিয়া কাপের ট্রফি জটিলতায় আরও চরম আকার ধারণ করেছে। এখন বাংলাদেশের ইস্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে পাকিস্তান।
বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। এর কৌশল হিসেবে বিসিবি প্রস্তাব দেয়:
বাংলাদেশকে ‘সি’ গ্রুপ থেকে ‘বি’ গ্রুপে এবং আয়ারল্যান্ডকে ‘বি’ থেকে ‘সি’ গ্রুপে নেওয়া। এতে বাংলাদেশের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় পড়ত। তবে আইসিসি এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি, বরং তারা আয়ারল্যান্ডকে নিশ্চিত করেছে যে কোনো গ্রুপ বদলানো হবে না।
আইসিসি কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ দলের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিসিবির প্রশ্ন অন্য জায়গায়। খেলোয়াড়দের বাইরে সাধারণ দর্শক ও সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি কে দেবে? আইসিসি ভিসা সহজ করার আশ্বাস দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছে বিসিবি।
ক্রিকইনফোর খবর অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান হবে। আইসিসি যদি বিসিবির দাবি না মানে এবং বিসিবি যদি তাদের অবস্থানে অটল থাকে, তবে বাংলাদেশকে ছাড়াই শুরু হতে পারে এবারের বিশ্বকাপ। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
বিপিএল চলাকালীন মিরপুরের প্রেসিডেন্ট বক্সে জাতীয় দলের কোচ ফিল সিমন্স ও সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা গেলেও তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। ভারতের ভিসা ফরম পূরণ করে রাখা হলেও বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কার প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে সব পরিকল্পনাই এখন ঝুলে আছে ২১ জানুয়ারির সিদ্ধান্তের ওপর।

