আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতের মাটিতে খেলতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই আবেদন নাকচ করেছে বলে জানিয়েছে ক্রিকেটবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফো।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আইসিসির মধ্যে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। একটি সূত্রের বরাতে ক্রিকইনফো জানিয়েছে, ভারতের বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে আইসিসি।
সূত্র আরও জানায়, বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশ দলকে ভারতেই খেলতে হবে। নির্ধারিত ভেন্যুতে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকিও থাকতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। তবে বিসিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইসিসি তাদের কাছে এ ধরনের কোনো চূড়ান্ত বার্তা বা আল্টিমেটাম দেয়নি।
এই বৈঠকের পর আইসিসি কিংবা বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, রোববার বিসিবি লিখিতভাবে আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের বিষয়টি ‘বিবেচনা’ করার অনুরোধ জানায়। সেই চিঠির প্রেক্ষিতেই এই ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজিত ২০ দলের এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হবে ৮ মার্চ। ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ নির্ধারিত রয়েছে কলকাতায়। ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টুর্নামেন্ট শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে।
এই পুরো পরিস্থিতির সূত্রপাত মূলত আইপিএলকে কেন্দ্র করে। গত ডিসেম্বরের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেয়। তবে পরবর্তীতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর নির্দেশে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করলেও, মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকও হয়নি। ফলে এই সিদ্ধান্তে কারা জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো হয় এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি সামনে আসে।
বিশ্বকাপ শুরুর এক মাসেরও কম সময় বাকি। এর মধ্যেই আইসিসি ও বিসিবির অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
